অমিত শাহর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ওবায়দুল কাদের : রিজভী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে অমিত শাহ ভারতের লোকসভায় যে মনগড়া, ভ্রান্ত ও কাল্পনিক তথ্যের অবতারণা করেন, ওবায়দুল কাদের সেটিরই বৈধতা দিয়েছেন কেবল। মীরজাফর, জগৎশেঠ ও রায়দুর্লভরা যেমন করে লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি ওবায়দুল কাদেরও অমিত শাহর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

এর আগে গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে পরিমাণ হামলা হয়েছে, এটা কেবল একাত্তরের বর্বরতার সঙ্গেই তুলনা করা যায়।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

রিজভী আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য মীরজাফরের সঙ্গে তুলনীয়। মীরজাফররাই দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদেশি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে সহযোগিতা করেছিল। ওবায়দুল কাদেররাও নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিদেশি মুরব্বিদের প্রতিভু হয়ে তাদের কুর্ণিশ করছেন। মুরব্বিদের প্রীতিধন্য হওয়ার জন্য নিজ দেশের প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা কলঙ্ক রটনা করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ২০০১ সাল কেন, বিএনপির কোনো শাসন আমলেই দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের সময় বরাবরই বাংলাদেশে এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন ছিল। খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাবরি মসজিদ সংকট এবং গুজরাট-দাঙ্গার সময়ও সম্প্রীতির অটুট বাঁধনে কোনো চিড় ধরেনি। বরং সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগ আমলে যত নিপীড়ন হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের লেখাতেই তার ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়েছে। গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা বলেছেন, ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ‘নিখোঁজ’ হয়েছে।’

বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার যেমন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে, একইভাবে নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) জটিলতায় সংখ্যালঘু ভারতীয় মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করার প্রক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এনআরসি বিষয়টিকে বারবার ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু আখ্যা দিতে এড়িয়ে যাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।