ক্রেতাদের বেশি পছন্দ বসুন্ধরা-মিরপুর

জমে উঠেছে আবাসন মেলা। এবারের মেলায় মোট দর্শনার্থীর বড় অংশের প্রথম পছন্দ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাট। এছাড়া মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার ফ্ল্যাটের প্রতিও বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা। এর বাইরে খিলগাঁও, মালিবাগ ও উত্তরা এলাকার ফ্ল্যাটেরও চাহিদা বেশি। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অন্যবারের চেয়ে এবার মেলায় ক্রেতা বেশি। আগে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি ছিল। একই সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি ফ্ল্যাটের খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন দর্শনার্থী এবং ক্রেতারা। সবাই তুলনামূলক কম দামে ভালো লোকেশনের জায়গা চাচ্ছেন। মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে দিয়ে দেখা গেছে, বিকেল নাগাদ মেলা প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। মোটামুটি সব স্টলেই কমবেশি লোকজন রয়েছেন। এর মধ্যে স্বনামধন্য কোম্পানির পাশাপাশি ছোট কোম্পানিগুলোর স্টলেও ক্রেতারা ঢুঁ মারছেন তুলনামূলকভাবে কম দামের আশায়।

দেশের অন্যতম সেরা আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের স্টলে গতকাল ছিল উপচেপড়া ভিড়। সবাই এই প্রতিষ্ঠানটির চলমান বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্টলের দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস) এস এম শামসুল কবির খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের মেলায় আগতদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। উচ্চবিত্তরাও আসছেন।

তিনি বলেন, মোট ক্রেতার ৪০ শতাংশই বসুন্ধরা  ও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার। এর বাইরে মোহাম্মদপুর, বাসাবো, মালিবাগ ও খিলগাঁওয়ের লোকজনও আছেন। আর মোট ক্রেতার ২০ শতাংশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরা এলাকার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিহ্যাব মেলার প্রথম দিকে মোট দর্শনার্থীর ২ শতাংশ ছিল আসল ক্রেতা। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখন সেটা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অঞ্চলে আমাদের বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। দাম পড়বে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা বর্গফুট। মিরপুর-১ ও মিরপুর ডিওএইচএসে আমাদের চলমান প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস মার্কেটিং) মমিন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেলায় যেসব ক্রেতা আসছেন তার বেশিরভাগই মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও এলাকার ফ্ল্যাট বেশি চাচ্ছেন। এছাড়া উত্তরার দিকের ফ্ল্যাটেরও ক্রেতা রয়েছেন বেশ। এসব এলাকায় তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি ফ্ল্যাটে এদের বেশি আকর্ষণ।

র‌্যাংগস প্রপার্টিজের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রাসেল তালুকদার দেশ রূপান্তরকে জানান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের ক্রেতার সবচেয়ে বেশি আগমন ঘটছে মেলায়। আমাদের স্টলে এ পর্যন্ত অভিজাত এলাকা থেকেও কাস্টমার এসেছেন, তবে এসব এলাকার খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন। সাধারণত মধ্যম শ্রেণির মানুষ চান একটু কম দামে ভালো এলাকা।

জেমস প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের বেশিরভাগ কার্যক্রম বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে ঘিরে। এর বাইরে উত্তরাতেও আমাদের ফ্ল্যাট রয়েছে। চার হাজারের বেশি বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ৪০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করলে ক্রেতাদের জন্য উপহার হিসেবে রয়েছে গাড়ি। এর বাইরে ছোট ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপহার এবং ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

জাপান টুঙ্গি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) শিবলী সাদিক বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের প্রচুর রেডি ফ্ল্যাট রয়েছে। আমরা সাধারণত রেডি ফ্ল্যাট বিক্রি করি। আশানুরূপ সাড়াও পাচ্ছি। কিছু চলমান প্রকল্পও আছে। এখন বুকিং দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।