ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আবদুর রহমান নামে আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসার ছাত্র ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে চরভদ্রাসন উপজেলার আবদুল সিকদারের ডাঙ্গি মাদ্রাসার মক্তব (তৃতীয়) শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুস সোবহান। মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ জানান, গতকাল বুধবার ফজরের নামাজের ওজুর সময় রহমান বমি করছিল। কয়েক দফা বমি করলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে যৌন হয়রানির আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশু রহমানের বাবা আবদুস সোবহান বলেন, ‘মাদ্রাসা থেকে খবর পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফরিদপুর হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার শরীরে নির্যাতন চালানো হয়েছে সেটা স্পষ্ট।’ এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চরভদ্রাসন উপজেলার ওসি হারুন অর রশীদ জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার পরিচালক, দুই শিক্ষক ও দুজন ছাত্রকে থানায় আনা হয়েছে। চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে লোধপাড়া গ্রাম থেকে সুলতান কবিরাজ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। সুলতান একই গ্রামের প্রয়াত রমজান আলী কবিরাজের ছেলে।
চাঁদপুরের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জানান, গত ১১ ডিসেম্বর দুপুরে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশে একটি ঝোপের আড়ালে ডেকে নিয়ে যায় সুলতান কবিরাজ। সেখানে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে। এ কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি-ধমকিও দেয় সে। কিন্তু ওইদিনই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মায়ের কাছে সবকিছু খুলে বলে সে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিচার করে দেওয়ার কথা বললেও কোনো বিচার করেননি।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ‘এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা করেন ওই স্কুলছাত্রীর মা। গতকাল বুধবার সকালে অভিযুক্ত সুলতান কবিরাজকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লায় মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি : কুমিল্লার দেবিদ্বারে ধর্ষণচেষ্টা মামলা তুলে নিতে গত সোমবার রাতে এক ‘বখাটে’ চক্রের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন এক গৃহবধূ। অভিযোগকারী ওই গৃহবধূ পৌর এলাকার বিজুলীপাঞ্জার গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফের আদালতে আরেকটি আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ। অন্যদিকে অসহায় স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে সুদূর মালয়েশিয়া থেকে কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন প্রবাসী স্বামী মিজানুর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর ঘরে জোর করে প্রবেশ করে একই গ্রামের সায়েদ আলীর ছেলে সফিক মিয়া (২৬)। এ সময় গৃহবধূকে যৌন হয়রানি করে অভিযুক্ত সফিক। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সফিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রথমে তিনি থানায় মামলা করতে গেলে সফিক ও তার সহযোগীদের প্রভাবে সেখানে মামলা করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন ওই গৃহবধূ। পরে ওই মামলায় সফিক আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আরও কয়েকজনকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর ওই গৃহবধূ ফের আদালতে আরেকটি মামলা করেন। এরপর গত সোমবার আবারও হুমকি দেয় সফিক ও তার সহযোগী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সফিক জানায়, ‘এগুলো সবই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। গ্রামের লোকজন জানে আমি কেমন প্রকৃতির লোক। মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন এবং ক্ষতিসাধন করার জন্যই ওই মহিলা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানা অভিযোগ দাখিল করেছে।’