সভাপতির বিরুদ্ধে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ অভিযোগ

তেঁতুলিয়া উপজেলার আলহাজ ডালিম উদ্দিন আহাম্মদ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সম্প্রতি এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) পর নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে।   এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি ১১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে উপজেলার ভজনপুর এলাকায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০২ সালের ১২ মার্চ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি-ম-লপাড়া এলাকার মোছা. সফুরা বানু করণিক পদে এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া-সাহেবীজোত এলাকার আমির হোসেন নৈশপ্রহরী হিসেবে যোগ দেন। তাদের দুজনকেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় মাদ্রাসার তৎকালীন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান সভাপতি ফজলুর রহমানকে করণিক পদের বিপরীতে সফুরা বানু তিন লাখ টাকা এবং নৈশপ্রহরী পদের বিপরীতে আমির হোসেন আড়াই লাখ টাকা দেন। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা ছাড়াই মাদ্রাসাটি চলমান রাখার পর গত ২৩ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত করে। এরপর থেকেই ফজলুর রহমান ওই দুজনের কাছে আরও সাত লাখ টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন। বেশ কয়েকবার আলোচনা সাপেক্ষে দুজনই আরও কিছু টাকা দিতে সম্মত হন। এতেও সভাপতি সন্তুষ্ট না হয়ে তাদের ছাঁটাই করা হবে বলে জানান এবং মাদ্রাসায় যেতে নিষেধ করেন।

এর অংশ হিসেবে ফজলুর রহমান গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) মাদ্রাসার শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মিলে মোট ১৮ জনের নামের তালিকা প্রেরণ করেন। ওই তালিকায় করণিক পদে সফুরা বানুর পরিবর্তে শাপলা নামে এক নারী ও নৈশপ্রহরী পদে আমির হোসেনের নাম বাদ দিয়ে সভাপতির ছেলে নুর জামালের নাম প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগকারী মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী আমির হোসেন বলেন, এত দিন বিনা পয়সায় চাকরি করেছি। এখন মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হওয়ায় আমাকে বাদ দিয়ে সভাপতি তার নিজের ছেলেকে নিতে চাচ্ছেন। সভাপতি আমাকে মামলাসহ বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন করণিক সফুরা বেগম। তবে মাদ্রাসার সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। যারা অভিযোগ করেছেন তারা ১৮ বছর ধরে একদিনের জন্যও মাদ্রাসায় আসেননি। এখন এমপিওভুক্তির খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন। মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার ইমরান আলী মুঠোফোনে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।