মেয়র খোকনের কান্না

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হওয়ার আশায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে কাঁদলেন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর তিনি যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তার কয়েকজন সমর্থককেও কাঁদতে দেখা যায়।

গত সাড়ে চার বছরে ঢাকা শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে মেয়র খোকন বলেন, আমি ঢাকাবাসীর সুখে-দুঃখে, ঢাকাবাসীর আপদে-বিপদে পাশে ছিলাম। আমি অনেক কাজ করেছি। কিছুটা কাজ বাকি আছে। আমি যেন বাকি কাজ শেষ করতে যেতে পারি। কর্তব্যে কখনো অবহেলা করেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আজ কঠিন সময়ে এ শহরের, এ দেশের মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ায়, ইনশাল্লাহ আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের পাশে থাকব।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য সদলবলে দলের সভাপতির কার্যালয়ে যান ‘স্বঘোষিত সফল’ মেয়র সাঈদ খোকন। সেখান থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার পক্ষে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল শামীম, আলাউদ্দিন ও জিএম মাসুদুল হাসান তার হাতে মনোনয়ন ফরম তুলে দেন।

পরে কার্যালয়ের মূল ভবনের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে ৩ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে কথা বলেন তিনি, যার অর্ধেক সময়ই আবেগাপ্লyত হয়ে কান্না করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাঈদ খোকন বলেন, মেয়র হিসেবে গত সাড়ে চার বছর ঢাকাবাসীর পাশে ছিলাম। আজ আমার রাজনৈতিক জীবনের একটা কঠিন সময়। এ কঠিন সময়ে প্রিয় ঢাকাবাসী ও দেশবাসী আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। প্রিয় দেশবাসী আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যাতে, আপনাদের সুখে-দুঃখে যেভাবে ছিলাম সেভাবে থাকতে পারি। এ সময় আমি যেন কামিয়াব (সফল) হই, সেজন্য আপনাদের দোয়া প্রয়োজন।’

মেয়র হিসেবে নিজেকে ‘সফল’ দাবি করলেও বিভিন্ন সময়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সাঈদ খোকনকে। বিশেষ করে মশার প্রকোপে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুজ¦র নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম সতর্কবার্তাতেও ‘অবহেলার’ অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর আগে ঢাকার সড়কগুলোর পাশে ডাস্টবিন বসানোর প্রজেক্টেও ব্যর্থ হন তিনি; এ নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি।

এদিকে আগামী ৩০ জানুয়ারির এ নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রার্থী হতে গত বুধবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ও হাজী মোহাম্মদ সেলিম। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরুসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামসহ পাঁচজন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন শহীদুল্লাহ ওসমানী, মেজর (অব.) ইয়াদ আলী ফকির, জামান ভূঁইয়া ও কুতুবউদ্দিন নান্নু। এদিকে গতকালই নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে কোনো বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’ সব মিলিয়ে সাঈদ খোকনের এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ১৭ জন ও কাউন্সিলর (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) পদে ৭০০ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ (শুক্রবার) পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আমার পিতা মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, পিতার হাত ধরেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। আজ আমার পিতা নাই, তাকে হারিয়েছি। পিতার অবর্তমানে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমার অভিভাবক; আমার জন্য তিনি যা মনে করবেন তিনি সেটাই করবেন। আমার নেত্রী যেটা ভালো মনে করবেন, ইনশাল্লাহ তিনি সেটাই করবেন।’