ঢাবি ক্যাম্পাসে ককটেল

অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা দেখছে কর্তৃপক্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। এমন আলোচনার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ককটেল। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ ক্যাম্পাসে ২২ ডিসেম্বর নুরের ওপর হামলা, গতকালের ককটেল পাওয়ার ঘটনা আর ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে যেসব হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে সবগুলোর সঙ্গে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার যোগসূত্র আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ককটেল পাওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ^বিদ্যালয়কে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যা ঘটছে তার জন্য আমরা মর্মাহত। একই সঙ্গে যা ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় এখন ছুটি। খুলবে ৩ জানুয়ারি। এর আগে এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করারই অপপ্রয়াস।

এ বিষয়ে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সন্দেহ নেই যে কেউ কেউ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। নানা অজুহাত তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ প্রশাসনের অন্যদের বিতর্কিত করতে ভূমিকা রাখছে। নাজমুল আহসানের এমন বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর যে বক্তব্য রেখেছেন তা সঠিক। একজন ভিপি কোনো সিলেবাস অনুযায়ী বক্তব্য রাখবেন না। সেজন্য তার ওপর হামলা হতে পারে না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি। ঢাবি শিক্ষক সমিতি এখন পর্যন্ত নুরের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সবার মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এমনটা করতে না পারলে সামনে পরিবেশ আরও খারাপ হবে। তিনি বলেন, ২০২০ সালে মুজিববর্ষ শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন। তিনি নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য বলেছেন। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে চলতে হবে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। আর ডাকসুর ভিপি সব বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন। যুগে যুগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা ভিপি ছিলেন তারা সিলেবাস অনুসরণ করে বক্তব্য রাখেননি। সবচেয়ে বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। তাদেরই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের আংশিক কমিটি ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর এ দুই কমিটিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন পদবঞ্চিত বিবাহিত ছাত্রদল নেতারা। এরপর গতকাল ঢাবি শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব নেতাকর্মী নিয়ে গতকাল ঢাবিতে গিয়েছিলেন। পরে রাকিবসহ অন্যরা বের হয়ে যাওয়ার পর মধুর ক্যান্টিনের সামনে ককটেল পাওয়া যায়।

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নুরের ওপর হামলা মানে ঢাবির সব ছাত্রের ওপর হামলা। কারণ ঢাবির ছাত্রদের ভোটেই নুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছে। নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, ঢাবির পবিত্র অঙ্গনে ভাষা-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান ডাকসু ভবন। এ ভবনে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা ঢাবি এবং ডাকসুর সুমহান ঐতিহ্যে কালিমালেপন করেছে যা ‘৭১-এর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেই’ শুধু মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পতন না হলে দেশের শিক্ষাঙ্গন, দেশ এবং দেশের মানুষ কেউই নিরাপদ থাকতে পারবেন না। তাই শািন্তপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে হটাতে হবে।