শীতকালীন আবাসন মেলায় মিলছে এক অঙ্কের (সিঙ্গেল ডিজিট) সুদে গৃহঋণ। মেলায় অংশ নেওয়া ১৪ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতে এ সুবিধা দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রিহ্যাব মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল বেশিরভাগ চাকরিজীবীর ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরের পর থেকে আবাসন মেলায় ব্যাপক মানুষের সমাগম হয়। সকালের দিকে বৈরী আবহাওয়ায় ক্রেতা কম এলেও বিকেলে বাড়ে। ক্রেতার সমাগমে সন্ধ্যায় পূর্ণতা পায় মেলা। এবারের মেলায় ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ২৩০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪টি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের আবাসন চাহিদাকে সাধ্যের মধ্যে আনতে সহজ শর্তে গৃহঋণ দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সর্বনিম্ন ৯.৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের ঋণের হারও ১০ শতাংশের নিচে। কোনো কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১০.৫ থেকে ১১.৫ শতাংশ হারে সুদে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। ঋণ সম্পর্কে তথ্য জানতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে ভিড় ছিল দর্শনার্থী-গ্রাহকদের। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি আর ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দেওয়া হচ্ছে। একটি ফ্ল্যাটের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়।
মেলায় অংশ নেওয়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন শাপলা বলেন, মেলা উপলক্ষে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ সুদে আবাসন ঋণের সুবিধা দিচ্ছে তাদের ব্যাংক। অন্য সময় তাদের এই সুদের হার সাড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ। ২০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণ পেতে আবেদনের ৭-১০ কর্মদিবসের মধ্যে তা পাওয়া যায়।
ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. শাহাবউদ্দিন জানান, ব্যাংক এশিয়া ১০ শতাংশ সুদে আবাসন খাতে ঋণ দেয়। সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। এক মাসের মধ্যে এই ঋণ ছাড় দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিলেও ব্যাংকটির কিছু অগ্রাধিকার আবাসন প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে অন্যতম রূপায়ণ, বসুন্ধরা, নাভানা, বিটিআই, অ্যাসুরেন্সের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান।
মেলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় এবার ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক দিচ্ছে ৯.৯ শতাংশ সুদে ঋণ। তবে কনস্ট্রাকশনের ক্ষেত্রে সুদ হার ১০ শতাংশ। মেলায় প্রতিষ্ঠানটি প্রসেসিং ফি রাখছে অর্ধেক। ব্র্যাক ব্যাংক দিচ্ছে ১০ শতাংশ সুদে গৃহঋণ। এ ব্যাংকটিও প্রসেসিং ফি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।
অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্টের সুদ হার ১০.৫ শতাংশ, প্রাইম ১০.৫ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ১১ শতাংশ, আইএফআইসির সুদ হার ১০ থেকে ১১ শতাংশ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডেল্টা ১০.৫ শতাংশ, আইডিএলসি সার্ভিস হোল্ডারদের জন্য ১০.৯৯ শতাংশ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ১১.৪৯ শতাংশ, লংকা-বাংলা ১১.৪৯ শতাংশ, ন্যাশনাল হাউজিং ১১ শতাংশ ও আইপিডিসি ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। মেলায় ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে আসা ক্রেতাদের অনেককেই ঋণ নিতে ব্যাংকের স্টলে খোঁজ নিতে দেখা গেছে।
রিহ্যাবের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে আমাদের এ ফেয়ারের আয়োজন। বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মেলায় তাদের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরছেন। মেলা শেষে নার্সিংয়ের মাধ্যমে এর মধ্যে থেকে অনেক ফ্ল্যাট বা প্লট কিনবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়ক হবে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর মেলায় ক্রেতা সমাগম বেশি। এদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তদের জন্য একটি গৃহঋণ তহবিল খুবই জরুরি। সবার ইচ্ছে আছে একটি সুন্দর ফ্ল্যাটের কিন্তু সামর্থ্যরে ঘাটতি রয়েছে অনেকের। তৈরি ফ্ল্যাটের প্রতি আগ্রহ একটু বেশি বলেও জানান তিনি।
মেলায় অংশ নেওয়া স্টল কর্র্তৃপক্ষরা বলছেন, প্রতিবারের মতো মেলায় ঋণ সুবিধা দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকায় ক্রেতারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। আগ্রহীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে তাদের প্রকল্পগুলোর প্রসপেক্টাস নিয়ে গেছেন। অনেকে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করবেন। মেলায় আসা ক্রেতাদের মধ্যে মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংখ্যা বেশি। আগ্রহ ছোট ও মাঝারি ফ্ল্যাটের দিকে।
এ বিষয়ে দেশের বৃহত্তম আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ স্টলে থাকা প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস) মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখান থেকে ক্রেতারা খোঁজখবর নিয়ে যান, বাসায় গিয়ে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেন। এতে মেলা শেষ হলেও আমরা এর সুফল পাই। ক্রেতারা আসেন।’