আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চায় বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়ে বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। এজন্য নানা ধরনের কর্মকৌশল ঠিক করা হচ্ছে। কর্মকৌশলের অন্যতম হলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন আদায় করা হবে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে। সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেতে সর্বপ্রথম নিজেদের
নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বলে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশের সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপি যে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তা সফল করা ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের পাস করাতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। এর জবাবে সবাই একবাক্য মেনে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তারা ঢাকার বাইরে রয়েছেন। এজন্য বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। তবে ফোনে কথা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বারবার সরকারের কাছে কৌশলে হেরে যাওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সরকারের অপকৌশল ঠেকাতে কর্মকৌশল ঠিক করতে হবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তারা যাতে নিজ নিজ জায়গা থেকে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এজন্য ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করতে হবে। ভোটের দিন দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে রাখতে হবে। বিশেষ করে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসাতে হবে। নিজ নেতাকর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নামাতে হবে।’
তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ করতে না পারলে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া যাবে না। দেশ থেকে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ যে হারিয়ে গেছে তা ফিরে পাওয়া যাবে না। জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির এক সময়ের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এগুলো দেখভাল করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। ঢাকা সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই মিন্টু ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানরত দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। মিন্টু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালামসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন।
সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আবদুল আউয়াল মিন্টুর কর্মকৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রে গেলেও নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ভোট ডাকাতদের প্রতিহত করার চেষ্টা করার ইচ্ছা রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারে একমাত্র নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। তারা জনগণের হয়ে কাজ করবেন বলে আশা রাখি। আজকে যারা প্রশাসনে আছেন তাদের ভাই-বোন-বন্ধু-স্বজনরাও কিন্তু ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে, জনগণের ভোটাধিকার না থাকলে ভবিষ্যৎ কারও জন্যই ভালো হবে না। তাই জনগণের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।