ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নাসিরনগর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা চালান রোগীর স্বজনরা। এতে মারধরের শিকার হন হাসপাতালটির ডাক্তার, নার্স ও নিরাপত্তাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিরানন্দ দাসের ছেলে সমীর দাস ও গোয়ালনগর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মতিলাল দাসের ছেলে টিটু দাস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসুস্থতার কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে টিটু দাসের মা লক্ষ্মী রানী দাসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে গিয়ে পড়ে যান তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোহিনুর আক্তার নামে এক নার্সকে গালমন্দ ও দুর্ব্যবহার করেন টিটু। একপর্যায়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ওই হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরী সায়েদ মোল্লা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে চাইলে তাকে পিটিয়ে জখম করেন টিটু ও তার সহযোগীরা। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতাল চত্বরে রাখা আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রাতেই নিরাপত্তা প্রহরী সায়েদ মোল্লাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মারধরের শিকার সায়েদ মোল্লার দুটি দাঁত পড়ে গেছে। আমরা তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।’
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় বলেন, ‘সামান্য একটি বিষয় নিয়ে আমাদের ওপর এমন হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মদ্যপ অবস্থায় এ হামলা চালানো হয়েছে। যদি এর সঠিক বিচার না পাই, তাহলে আমরা কর্মবিরতিতে যাব।’
নাসিরনগর থানার ওসি সাজিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মকবুল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।