মানিকগঞ্জে বাড়ছে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তিন ইউনিয়নে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ। এখানে গ্লাডিওলাস ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ করে এই অঞ্চলের অনেক চাষি অর্থনৈতিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী।

গ্লাডিওলাস ফুল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছেন ফুলচাষিরা। অন্যান্য ফসলের চাইতে লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন ফুল চাষে।

চলতি বছরে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর, শায়েস্তা, ধল্লা ইউনিয়নে ৮ হেক্টর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ জন ফুলচাষি বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন।

সারা বছর এর চাহিদা ও চাষ শুরু করার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই তা বিক্রির উপযোগী হওয়ায় লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন চাষিরা।

সিংগাইরে ৪ রঙের গ্লাডিওলাস ফুল চাষ হচ্ছে। ঢাকার ফুল আড়তগুলো খুব কাছে হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা এ গ্লাডিওলাস ফুলের।

ইরতা কাশিমপুর গ্রামের ফুলচাষি আবুল কালাম বলেন, ‘আমি ১২ বছর ধরে গ্লাডিওলাস ফুল চাষ করে আসছি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এটা বেশি লাভজনক। প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।

এ বছর খরচ বাদে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন এ ফুল চাষি।

ধল্লা ইউনিয়নের ফুল চাষি হালিম মিয়া জানান, গ্লাডিওলাস ফুল শীতকালে ৯০ দিন ও গরমকালে ৬৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে বলে সারা বছরই এর চাষ করেন তিনি। প্রতি ফুল ১৬-১৮  টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করা যায়। ফুল গাছের নিচের দানাগুলো প্রতি পিস ৩ টাকা করে বিক্রি করা যায়।

এরই মধ্যে তিনি দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। বাজার যদি এমন ভালো থাকে তাহলে আরও এক লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান হালিম মিয়া।

তালেবপুর ইউনিয়নের ফুল চাষি মান্নান বলেন, বাজারে এখন চায়নার তৈরি প্লাস্টিকের ফুলে সয়লাব হয়ে গেছে। প্লাস্টিকের ফুল আমদানি করা বন্ধ না করলে আমরা ফুল চাষিরা লোকসানের মুখে পড়ব।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান স্বপন বলেন, সিংগাইর উপজেলার মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী ও অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন গ্লাডিওলাস ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সব সময় সহযোগিতা করে আসছি।