৪৯ হাজার নদী দখলদার উচ্ছেদ করতে চায় সরকার

অবৈধভাবে নদী দখল করে থাকা ৪৯ হাজার ১৬২ জনকে উচ্ছেদ করতে চায় সরকার। এক বছরের মধ্যে এদের উচ্ছেদের জন্য নদী রক্ষা কমিশন তালিকাসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তালিকার বাইরে কেউ থাকলে দ্বিতীয় তালিকার মাধ্যমে তাদেরও উচ্ছেদ করা হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে নদী রক্ষা কমিশনের অফিসে বাংলাদেশ নদী কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৮ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। দ্বিতীয় তালিকা তৈরির জন্য মাঠ পর্যায়ে তথ্য

সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে নদী রক্ষা আইন সংস্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের।

কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমরা এক বছরের ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে অবৈধ দখলারদের উচ্ছেদ করতে হবে। প্রভাবশালীদের দখল উচ্ছেদের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়লেও স্থানীয়ভাবে আইন প্রয়োগকারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে এসব প্রভাবশালী। আমরা লক্ষ করেছি মাঠপর্যায়ে যাদের নদী রক্ষায় কাজ করার কথা তারা সেটি করছে না। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদে খুব একটা আগ্রহী নয়। নদী কমিশনের আইনের সংস্কার করা হচ্ছে। এই আইনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে তাতে জবাবদিহিতার বিধান যোগ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তাতে বলা হয়, আগে শোনা যেত বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা ৮০০। কিন্তু এখন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০৫টির। এর মধ্যে আবার বেশিরভাগেরই অবস্থা মরণাপন্ন। দূষণ, দখল, ভাঙন ও চরÑ সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় আছে নদীগুলো। ঢাকার একপাশে বুড়িগঙ্গা, অন্যপাশে তুরাগের দূষণ সবচেয়ে বেশি। শিল্প কারখানাগুলোর দূষণ আর দখলে নদীর অবস্থা খুবই করুণ। একদিকে উচ্ছেদ হচ্ছে অন্যদিকে আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকার পাশের বালু নদীর অবস্থাও একই। এ ছাড়া ঢাকার খালগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। শিল্পদূষণের শিকারের তালিকায় আছে বংশাই নদী, চিলাই নদী, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, ময়নাকাটা নদী, পাচুরিয়া খাল, গোমতী নদী, সোমেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘড়া খাল, গিরিজা খাল, হালদা নদী। এর সঙ্গে যুক্ত ১৮টি খাল, কর্ণফুলী নদী, পাশের চাকতাই খাল, সাঙ্গু নদী, ধানসিড়ি নদী, গাবখান চ্যানেল। অন্যদিকে দখলের কারণে মেঘনা নদী অর্ধেক হয়ে গেছে। পিয়াইন নদী থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন, টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড় ও নীলফামারীর নদীগুলোও এখন দূষণ, দখল ও অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকির মধ্যে আছে।

দেশের প্রভাবশালী পাঁচটি শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ এনে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মন্ত্রী, সচিবদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, কোথায় কোন প্রভাবশালী দখল করে রেখেছেন। এসব জায়গায় উচ্ছেদ করতে গেলে সমস্যা হতে পারে আশঙ্কা করেই বলেছি, আপনারাও আমাদের সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযনে চলুন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি শীতলক্ষ্যা এবং মেঘনাতে প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নদীর ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার দখল করে কারখানা স্থাপন করেছে এসব প্রভাবশালী শিল্প গ্রুপ।  সীমাহীনভাবে তারা নদী দখল করেছে। যা ৭ কিলোমিটারের কম হবে না।