২০১৯ সালের আলোচিত ১০ খবর

নানা কারণেই ২০১৯ সালটি বেশ আলোচিত। ব্রেক্সিট নিয়ে টালমাটাল হয়েছে যুক্তরাজ্য। কাশ্মীর, এনআরসি ও সিএএ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়েছে ভারত। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে অভিশংসনের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনপ্রিয় এক কৌতুক অভিনেতাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে ইউক্রেনের মানুষ। গ্রেপ্তার হয়েছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এসবের বাইরেও আলোচিত ১০টি খবর সম্পাদনা করেছেন পরাগ মাঝি

চাঁদের অচিন পাশে চীন

চলতি বছর ৩ জানুয়ারি পেইচিংয়ের সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের উল্টো পাশে অবতরণ করে চীনের মহাকাশ যান চ্যাং-ই-ফোর। এর আগে চাঁদে মানুষের প্রথম পা পড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো মহাকাশযানগুলো পৃথিবীর দিকে থাকা চাঁদের পৃষ্ঠেই অবতরণ করেছে।

চাঁদের অচিন পাশে অবতরণ করা চীনা মহাকাশযানটিতে চাঁদের ওই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জাম ছাড়াও রয়েছে জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষার যন্ত্রপাতি। চাঁদের উল্টো পাশে এই মহাঅবতরণকে ‘মহাকাশ অভিযানের বড় একটি মাইলফলক’ আখ্যা দেয় চীন।

১১ জানুয়ারি চ্যাং-ই-ফোরের রোভার ইউটু-টুয়ের (জেড র‌্যাবিট টু) তোলা চাঁদের প্যানারমিক ছবিগুলো প্রকাশ করে। ছবিগুলো পৃথিবীতে পাঠানো হয় বিশেষ রিলে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, চাঁদের উল্টো পাশের ভূমিতে অনেক খানাখন্দ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ইউটু টু রোভারের জন্য ভবিষ্যতে সেখানে আরও অনুসন্ধান চালানোর ক্ষেত্রে এমন ভূপ্রকৃতি সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রকাশিত প্যানারমিক ছবিগুলোর মধ্যে একটি চাঁদের উল্টো পাশের ৩৬০ ডিগ্রি কোণে তোলা চিত্র। ছবিটি মোট ৮০টি ছবি যুক্ত করে পাওয়া গেছে।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধাবস্থা

২০১৯ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতির সূচনা হয় চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি গাড়িতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার লেথপোরায় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। এ হামলার ফলে ৪৮ জন ভারতীয় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কর্মী এবং আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটে। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদ।

হামলার জের ধরে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২টি মিরাজ-২০০০ জেট বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে বালাকোটে জইশ-ই-মুহাম্মদ পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আঘাত করে। দিল্লি দাবি করে, এই আকস্মিক অভিযানে তারা জইশ-ই-মোহাম্মদের ২০০ থেকে ৩০০ সদস্যকে হত্যা করেছে। কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের ওপর আরও জঙ্গি হামলা চালানো হতে পারে এ সন্দেহেই তারা জঙ্গি গ্রুপটির ওপর হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করে খোলা মাঠে চালানো ওই ভারতীয় অভিযানে কেউ হতাহত হয়নি। পাকিস্তানের ভেতরে ভারতবিরোধী জঙ্গিরা তৎপর দিল্লির এ অভিযোগও অস্বীকার করে ইসলামাবাদ। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুটি ভারতীয় মিরাজ-২০০০ বিধ্বস্ত করে

পাকিস্তান এয়ারফোর্স এবং একজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান আর্মি।

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে একটি মসজিদে ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে হামলা চালায় ব্রেন্টন হ্যারিসন ট্যারান্ট নামে এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ৫০ মুসল্লি নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নামাজ শুরু হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট পর বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে জানালার কাচ ভেঙে সে পালিয়ে যায়। তার হাতে অটোমেটিক রাইফেল ছিল।

এ গুলিবর্ষণ নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসবাদী হামলা। হামলার ৩৬ মিনিট পর পুলিশ কর্মকর্তা ট্যারান্টকে গ্রেপ্তার করে। হামলার সময় ট্যারান্ট নিউজিল্যান্ডে ডুনেডিনের অ্যান্ডারসনস বে’তে বাস করছিল। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটনে একজন ব্যক্তিগত শরীরচর্চা প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। মসজিদে হামলার দুই বছর আগেই এর পরিকল্পনা করছিল সে।

হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তারা ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন। মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে স্থানীয় একজন তাদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করে বলেন, এখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আতঙ্কিত খেলোয়াড়রা তখন দৌড়ে মাঠে ফেরত আসেন।

ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ

বিজ্ঞানের এক বিস্ময়ের নাম ‘ব্ল্যাক হোল’ বা ‘কৃষ্ণ গহ্বর।’ গবেষকরা তাদের মনের মাধুরী দিয়ে বিভিন্ন সময় সেই ব্ল্যাক হোলের ছবি এঁকেছেন, যার কোনোটাই বাস্তব নয়। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ব্ল্যাক হোলের প্রথম ছবি প্রকাশ করে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন।

পৃথিবী থেকে ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটারজুড়ে থাকা এই গহ্বর আকারে পৃথিবীর প্রায় ৩০ লাখ গুণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আটটি টেলিস্কোপ মিলে এই ছবিটি তুলতে সক্ষম হয়। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। সূর্যের তুলনায় এর ভর ৬.৫ মিলিয়ন গুণ বেশি।

ছবিটিতে দেখা যায়, কালো অংশের চারপাশজুড়ে রয়েছে এক আগুনের বলয়। যার উজ্জ্বলতা কয়েক লাখ নক্ষত্রের সমষ্টিকেও ছাপিয়ে যাবে। আর তাই এত দূর থেকেও সেই আগুন এত স্পষ্ট।

এই ব্ল্যাক হোল নিজের দিকে আসা সব আলোক রশ্মিকেও শুষে নেয়। এ গহ্বর থেকে ফিরে আসতে পারে না কিছুই। যেহেতু ব্ল্যাক হোল থেকে আলোও বিচ্ছুরিত হতে পারে না, তাই একে দেখা সম্ভব নয় বলেই ধরে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশবিদরা ১৬ বছর ধরে আশপাশের তারাম-লীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ২০০৮ সালে অতিমাত্রার ভরবিশিষ্ট ওই ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব টের পান।

নটর ডেম ক্যাথেড্রালে আগুন

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল আগুনে পুড়ে যায় ‘হার্ট অব প্যারিস’খ্যাত ফ্রান্সের ঐতিহাসিক নটর ডেম ক্যাথেড্রালের একাংশ। এ অগ্নিকা-ে ধ্বংস হয় ক্যাথেড্রালের অনেক শিল্পসামগ্রী। পুরোপুরি ভেঙে যায় দুটি সুউচ্চ টাওয়ার। অধিকাংশ পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ক্যাথেড্রালের উত্তর ও দক্ষিণের ওই দুটি টাওয়ার। ভ্রমণপিপাসুরা দক্ষিণের গোথিক টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ও সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। দুটি টাওয়ারই ৬৮ মিটার উঁচু এবং রয়েছে ৩৮৭টি সিঁড়ি। যেখানে দাঁড়িয়ে প্যারিস শহরের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়।

ধারণা করা হয়, নির্মাণসামগ্রী থেকেই প্রলয়ঙ্করী ওই আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তার আগেই বিপুল ক্ষতির সম্মুখিন হয় ৮০০ বছরের পুরনো দৃষ্টিনন্দন ওই স্থাপনার।

ক্যাথেড্রালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শিল্প সম্ভারের মধ্যে রয়েছে রোজ উইন্ডোজ। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্মিত তিনটি রোজ উইন্ডোজ হলো ক্যাথেড্রালের সবচেয়ে বিখ্যাত অংশ। ক্যাথেড্রালে রয়েছে ১০টি ঘণ্টা। সবচেয়ে বড়টির নাম এমানুয়েল। যেটির ভর ২৩ টনেরও বেশি।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে পর্যটকপ্রিয় স্থাপত্য। প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি পর্যটক এ স্থাপত্য দেখতে আসেন।

জাপানি সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগ

২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো। গত ২০০ বছরে এই প্রথম কোনো জাপানি সম্রাট পদত্যাগ করলেন। রাজপ্রাসাদের স্টেট রুমে ভাবগম্ভীর ‘তাইরেই-সেইদেন-নো-জি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর এঁকে দেন ৮৫ বছর বয়সী আকিহিতো। পরদিনই জাপানের ঐতিহাসিক চন্দ্রমল্লিকা সিংহাসনে অভিষেক ঘটে আকিহিতোর বড় ছেলে যুবরাজ নারুহিতোর।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণ দেখিয়ে সিংহাসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন আকিহিতো। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর আগে অভিষেক হওয়ার পর মানুষের জন্য গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা নিয়ে সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। দেশের প্রতীকচিহ্ন হিসেবে আমাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

১৯৮৯ সালের ৮ জানুয়ারি বাবা সম্রাট হিরোহিতোর মৃত্যুর পর জাপানের ১২৫তম সম্রাট হিসেবে আকিহিতোর অভিষেক এবং হেইসেই যুগের সূচনা হয়। পদত্যাগের তিন বছর আগেই সিংহাসন ত্যাগ করার বাসনা ব্যক্ত করেছিলেন আকিহিতো। কিন্তু জাপানের সংবিধানে সম্রাটের পদত্যাগ করা সম্পর্কে কোনো আইন না থাকায় সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়। সেই প্রস্তাব পাস হয়ে নতুন আইন তৈরি হলে তার পদত্যাগ করার পথ সহজ হয়। বর্তমান সম্রাট নারোহিতোর আমলকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘রেইওয়া যুগ’ নামে।

তাইওয়ানে সমকামী বিয়ের বৈধতা

চলতি বছর ১৭ মে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে তাইওয়ানের সংসদ সমকামী বিয়েকে আইনগত বৈধতা দিয়ে একটি বিল পাস করে। এ আইনের ফলে দেশটির সমকামীরা এখন তাদের বিয়ে নিবন্ধন করতে পারছে। ২০১৭ সালে তাইওয়ানের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছিল, সমকামী বিয়ে হতে না দেওয়াটা অসাংবিধানিক। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে দুই বছরের মধ্যে সমকামীদের বিয়ের স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল উপস্থাপন করতে বলেছিল। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ের সমতা আইন চালু হয়ে যাবে বলে জানায় আদালত। তাইওয়ানের সংসদে ৬৬-২৭ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে সমকামীদের বিয়ে নিয়ে একাধিক গণভোটের আয়োজন করেছিল দেশটি। সেই সময় ভোটাররা এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। ‘দ্য কোয়ালিশন ফর দ্য হ্যাপিনেস অব আওয়ার নেক্সট জেনারেশন’ নামের একটি সংগঠন দাবি করে, সংসদে বিল পাস করার মাধ্যমে গণভোটে অংশ নেওয়া ৭০ লাখ ভোটারের ইচ্ছাকে পদদলিত করা হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন সংসদের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে টুইট করেন। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘সত্যিকারের সমতার দিকে বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হংকংয়ে বিক্ষোভ

অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে হংকং। নতুন এ আইন অনুযায়ী চীন চাইলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। প্রস্তাবিত এ আইনের প্রতিবাদে ২০১৯ সালে জুন মাসে হংকংয়ের রাজপথে নেমে আসে হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা। ২০১৪ সালের আমব্রেলা মুভমেন্টের পর এটিই হংকংয়ের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হংকংয়ে বিরোধীপক্ষকে শায়েস্তা করতে চীন প্রস্তাবিত আইনটিকে ব্যবহার করবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইনটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তবে হংকং সরকার বলছে, আইনটিতে নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনের পক্ষাবলম্বনকারীরা বলছে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন এ আইনের মাধ্যমে ক্ষতির শিকার না হন, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আইনটির পক্ষাবলম্বনকারীদের এ প্রবোধ মানতে নারাজ সমালোচনাকারীরা। তাদের মতে, এ আইনের মাধ্যমে হংকংয়ের বিচারব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়েছে। এর মাধ্যমে হংকংয়ের ওপর চীনের প্রভাব বাড়বে। হংকংয়ের যেকোনো ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে চীন এ আইন ব্যবহার করবে।

প্রস্তাবিত এ আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সবাই এ বিক্ষোভে অংশ নেন। অধিকাংশের পরনেই ছিল সাদা পোশাক। নতুন এ আইনকে হংকংয়ের স্বকীয়তা বজায় থাকা না থাকার প্রশ্ন বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। কয়েক মাস ধরে চলমান এ আন্দোলন এখনো অব্যাহত আছে।

বাগদাদি নিহত

২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট গ্রুপের পলাতক নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যা করার ঘোষণা দেন। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার একটি এলাকায় বাগদাদির

আস্তানাকে লক্ষ্যবস্তু করে মার্কিন সেনারা রাতের বেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে শরীরে থাকা সুইসাইড ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন বাগদাদি। ট্রাম্প দাবি করেন, অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি, বরং আল-বাগদাদির বেশ কয়েকজন অনুসারী নিহত হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ওই অভিযানটি পরিচালনা করে। এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় ভুলভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, আইএস নেতা নিহত হয়েছেন।

আবু বকর আল-বাগদাদির আসল পরিচয় কী তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ধারণা করা হয় তার আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বদরি। ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারার কাছে একটি সুন্নি পরিবারে তার জন্ম। অল্প বয়সে গভীরভাবে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কোরানিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আল-বাগদাদিকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন

১১ ডিসেম্বর ভারতের সংসদে পাস হয় দেশটির আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে এখনো উত্তাল ভারত। আইনটির বিরোধিতা করে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের রাজপথে নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ।

‘নাগরিকত্ব আইন-২০০৪’-এর সংশোধনী অনুসারে, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে বা যাদের বাবা-মা এ বছরের আগে এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা আইন অনুযায়ী ভারতীয় বলেই বিবেচিত হবেন। অথবা যাদের বাবা-মায়ের অন্তত একজন ভারতীয় তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে ভারতের আসামে এ সময় ১৯৭১। এ সময়ের আগে আসামে জন্মগ্রহণকারীরা ভারতীয় নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন।

সংশোধনী অনুসারে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মেছেন, যিনি ১ জুলাই ১৯৮৭ বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ সালের আগে জন্মেছেন এবং জন্মের সময় বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক হলে তারা যথাযথ ভারতীয় নাগরিক বলেই গণ্য হবেন।

১০ ডিসেম্বর ১৯৯২ বা তার পরে কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর আগে যারা ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যার বাবা-মা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক তারাও ভারতীয়। কেউ যদি ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাবা-মা উভয়ই যদি ভারতের নাগরিক হন বা বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক এবং অন্যজন তার জন্মের সময়ে অবৈধ অভিবাসী না হন তবে তারা ভারতীয় নাগরিক।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এ দেশে এসেছেন তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।