ঢালিউডের নতুন ক্রেজ সিয়াম আহমেদ বছরজুড়েই ছিলেন আলোচনায়। দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে সিয়াম জানালেন বিগত বছরের নানা ফিরিস্তি আর নতুন বছরের প্রত্যাশার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
২০১৯ কেমন কাটল?
২০১৯ আনন্দেই কাটল। আল্লাহ তায়ালা যা দিয়েছেন তার জন্য শুকরিয়া। দর্শকের ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, তেমনি তাদের জন্য কিছু কাজও করেছি। ২০১৯ এ যে কাজগুলো করেছি সেগুলো ২০২০ এ মানুষ দেখতে পাবে। আশা করি তারা নিরাশ হবে না।
সিনেমা হলে মাত্র একটি ছবি...
হ্যাঁ, এ বছর শুধু একটা ছবিই মুক্তি পেয়েছে ‘ফাগুন হাওয়া’। তবে কাজ করেছি বেশ কিছু সিনেমায়। ‘বিশ্ব সুন্দরী’, ‘শান’, ‘পাপ-পুণ্য’। শ্যুটিং চলছে ইত্তেফাকের, অপারেশন সুন্দরবনের।
এই ছবিগুলোর মধ্যে কোনটা নিয়ে বেশি প্রত্যাশা
এটা তো আমি বলতে পারব না। পুরোটাই দর্শকের ওপর নির্ভর করছে। আমি কষ্ট করে কাজ করেছি। এখন দর্শক কাজটা কীভাবে নেবে সেটা দর্শকই বলতে পারবে। কাজের প্রতি যে দায়িত্ববোধ থাকা দরকার সেটা ছিল। আমি চেষ্টা করেছি প্রত্যেকটা কাজই ভালোভাবে, সুন্দর করে করতে। নিজের মেধার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন দেখা যাক, দর্শক কীভাবে নেয়।
বছর ধরেই ইতিবাচক আলোচনায় সিয়ামের নাম ছিল...
আলোচনায় থাকতে পারলে ভালো লাগে। আর সেই আলোচনাটা ইতিবাচক আলোচনা হলে সেটার আনন্দ আরও বেড়ে যায়। পজেটিভ আলোচনা যেহেতু হচ্ছে, তাই কোথাও না কোথায় আমাদের কাজটা মানুষ পছন্দ করছেন। এটা অবশ্যই আমার জন্য ইতিবাচক। যারা আমাকে ভালোবাসেন তাদের জন্য যেমন যারা ভবিষ্যতে আমাকে নিয়ে কাজ করবেন তাদের জন্যও এটা ইতিবাচক। কারণ আমি সিনে-ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি অল্পদিন ধরে। এই সময়ের মধ্যেই দর্শক যদি আমাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করে, তাহলে তো আমার জন্য সেটা ভাগ্যের ব্যাপার। তাদের জন্যও ভালো বিষয় যারা আমার কাছে ভালোকিছু প্রত্যাশা করেন।
ব্যক্তিগত জীবন কেমন কাটল?
এ বছর অনেক কাজ করেছি। ফলে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি পরিবারকে। নতুন বছরেও তাদের সময় দিতে পারব কি না জানি না। তবে তারাও বিষয়টা বুঝেছে। আমি কাজের জন্যই তাদের সময় দিতে পারিনি। তারাও সাহায্য করেছে আমাকে।
২০২০-এর প্রত্যাশা কী?
২০২০ এ আমার বেশ কিছু ছবি আসতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে ২০১৯-এ আমি যা করিনি ২০২০-এ আমি তা করব। প্রথম দিকে আমার টার্গেট ছিল যে বছরে খুব কম ছবিতে কাজ করব। এখন আপনি যদি দেখেন তাহলে দেখবেন আমাদের বছরে ৫২ সপ্তাহে ৫২টি সিনেমা রিলিজ হয় না। যদি হলগুলো সার্ভাইভ করতে চায় বা দর্শকদের যদি হলমুখী করতে হয় তাহলে নিয়মিত তাদের সিনেমা দিতে হবে। তাই কম সিনেমা করার সেই ডিসিশন থেকে সরে এসেছি। এখন একাধিক ছবি করছি। আর কোনো জনরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। কমার্শিয়াল বা আর্টফিল্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যে গল্পগুলো ভালো লাগছে সেই গল্পগুলোতে কাজ করছি। আশা করছি সেটা আর্ট বা কমার্শিয়াল হোক, সেগুলো দর্শকদের ভালো লাগবে। দর্শকরা নিরাশ হবে না আশা করি। আমি সবসময় গল্প ও ডিরেক্টররের প্রতি বিশেষ নজর দিই।