প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশের ঘাড় ধাক্কা

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা পুলিশি হেনস্তার মুখে পড়েন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

গত শনিবার উত্তর প্রদেশের লক্ষেèৗতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রিয়াঙ্কা নিজেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, লক্ষেèৗতে গ্রেপ্তার সাবেক আইপিএস এসআর দারাপুরীর বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে দু’বার থামায়।

অভিযোগ আরও বলা হয়, প্রথমবার তার গাড়িবহর থামিয়ে তাকে দলীয় কর্মীর স্কুটারে গন্তব্যে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। ফের দু’কিলোমিটার পর তাকে আটকানো হয়। সে সময় কয়েকজন পুলিশকর্মী তাকে ঘিরে ধরেন এবং নারী পুলিশকর্মীরা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ওই ঘটনার পরও ঘটনাস্থলে না থেমে প্রিয়াঙ্কা নিজ গন্তব্যের দিকে হেঁটে চলে যান।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হেঁটে যাওয়ার পথে কয়েকজন নারী পুলিশকর্মী তাকে আটকাচ্ছেন। সে সময় প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং কংগ্রেস সমর্থকরা এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে শুরু হয় দু’পক্ষের ঝগড়া।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানান, ‘বচসা চলাকালীন ঘিরে থাকা এক নারী পুলিশকর্মী আমার ঘাড় ধরেন। আর একজন আমাকে ধাক্কা দেন, আমি মাটিতে পড়ে যাই। এরপর তারাই আমাকে ঘাড় ধরে তোলেন এবং এগিয়ে যেতে বাধা দেন। কিন্তু আমি অবিচল ছিলাম। পুলিশের আগ্রাসনের মুখে পড়া জনগণের পাশে আমি এভাবেই দাঁড়িয়েছি। এই ছিল আমার সত্যাগ্রহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে আমাকে থামানোর কোনো কারণ পুলিশের নেই। তারা সড়কের মাঝখানে আমাকে থামিয়ে দিয়েছে। বিজেপি সরকার কাপুরুষোচিত কাজ করছে। আমি কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের (পূর্বাঞ্চলের) দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং আমি রাজ্যের কোথায় যাব সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে না। আমি যখন শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে যাচ্ছিলাম; তখন কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে? আমাকে থামানোর কোনো অধিকার তাদের নেই। তারা যদি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে তাদের সেটা করা উচিত।’

অবশ্য অভিযুক্ত নারী পুলিশকর্মী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি শুধু তার কর্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই পুলিশকর্মী।