নতুন জারি করা বেতনকাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা ঘিরেও বিক্ষোভ করেছেন কর্মীরা। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ ডিসেম্বর কর্মীদের বিদ্যমান বেতন-ভাতা কমিয়ে সার্কুলার জারি করে ব্যাংকটি। এরপর কর্মীরা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আলম ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন এমডি। গতকালের বোর্ড সভায় ব্যাংকটির নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিবিধ আলোচনায় বেতন কমানোর বিষয়টিও ছিল। তবে পর্ষদ জারিকৃত সার্কুলারের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে কর্মীরাও তাদের দাবিতে অটল থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বোর্ড সভায় বেতনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জারিকৃত সার্কুলারের বিষয়ে অনড় ছিলেন। তারা বলেন, কোনোভাবেই জারিকৃত নতুন বেতনকাঠামো থেকে সরে আসা যাবে না। নতুন কাঠামোতেই বেতন-ভাতা হবে। এ অবস্থায় কর্মীরাও তাদের দাবিতে অটল থেকে বিক্ষোভ করেন। কর্মীরা চান যে করেই হোক বেতন যেন বাড়ানো হয়। আগে যে হারে বেতন হতো, সেই হারে না হলেও বিদ্যমান কাঠমো থেকে আরেকটু যেন বাড়ে।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে বোর্ড সভাকে ঘিরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। সভা শেষ হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালকদের রুমের বাইরে অবস্থান নেন। গতকাল রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।
২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে বেতনকাঠামো নির্ধারণের নির্দেশনা জারি করে বেসিক ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ। এতে কমে যায় ব্যাংকটির সব স্তরের কর্মীদের বেতন। এ কারণে বেসিক ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরপর থেকেই নিয়মিত বিক্ষোভ করছেন ব্যাংকটির তারা। তাদের দাবি, ব্যাংকটির সার্কুলারে বেতনকাঠামো দেখে তারা নিজ যোগ্যতায় চাকরি নিয়েছেন। এখন সেই বেতন কমানো অযৌক্তিক। বোর্ডের অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে। পর্ষদের দায় কর্মীরা কেন নেবেন, এটা তারা মানবেন না।
নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত সাত বছর ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় বিদ্যমান অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ব্যাংকটির পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাংকের বিদ্যমান বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হলো।