ঝালকাঠিতে সেতু ভেঙে বিশ দিন ধরে জেলার রাজাপুর ও পিরোজপুর উপজেলার কাউখালী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এতে দুই উপজেলার প্রায় বিশ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদার হাট এলাকায় সন্ধ্যা নদীর উপর নির্মিত দুই জেলার দুই উপজেলার এ সংযোগ সেতুটি প্রায় এক মাস ধরে ভেঙে নদীতে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ।
জানা গেছে, ২০০২ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে নির্মিত এ আয়রন ব্রিজটি (লোহার ভীম ও ঢালাই দিয়ে নির্মিত) গত ১১ ডিসেম্বর রাতে দুই উপজেলার সংযোগ সেতুটি গাছবোঝাই একটি নৌকার ধাক্কায় ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
এতে দুর্ভোগে পড়ে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।
রাজাপুর ও পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলাকে সংযুক্ত করা এই সেতুটি দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। নদীর পূর্ব পাড়ে রাজাপুর অংশে একটি হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও পশ্চিম পাড়ে কাউখালী উপজেলায় আইরন হাইস্কুল, আইরন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়কুল গার্লস স্কুল, গুয়াটন কলেজ ও কাউখালী ডিগ্রি কলেজসহ দুই পাড়ে প্রায় ডজন খানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এতে স্থানীয় কয়েক’শ শিক্ষার্থী পড়েছে চরম বিপাকে। এছাড়া সেতু না থাকার কারণে কাউখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী এ এলাকার পুরোনো তালুকদার হাটে খেয়া পারাপারের মাধ্যমে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা।
তালুকদার হাটের ইজারাদার জমি দাতা বাবুল তালুকদার বলেন, হাটটি দুই উপজেলার মাঝখানে হওয়ায় স্থানীয় শুক্তগড় ও সাটুরিয়া এবং কাউখালী উপজেলার আইরন, জয়কুল ও গুয়াটনের কয়েক হাজার মানুষ এখানে হাট বাজার করে। সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে খেয়ার মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় অভিভাবক কালু শীল বলেন, ডিসেম্বর মাস হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাবার কোনো চাপ নেই। জানুয়ারি মাস থেকেই যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়বে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রিজ ভাঙার বিষয়ে আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ অবহিত করেনি। আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। যেহেতু এই সেতুটি দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই এর সংস্কারের ব্যবস্থা করব।