বছরের অধিকাংশ কার্যদিবসে দরপতনের পর শেষ দিনে সূচক সামান্য বেড়েছে। ব্যাংক, বস্ত্র ও খাদ্য খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। এতে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ৪৪৫২ পয়েন্টে। ফলে ২০১৯ সালে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। আগের বছর ২০১৮ সালেও সূচকটি ১৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট হারায়। গতকাল সূচক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনেও সামান্য উন্নতি দেখা গেছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপে চলতি বছর সূচকের বড় পতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। একমাত্র বীমা ছাড়া অন্যসব খাত বাজার মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্দশায় রয়েছে পাট, সিমেন্ট, ট্যানারি, কাগজ, বস্ত্র, প্রকৌশল ও এনবিএফআই খাত। ২০১৯ সালে এসব খাত ২৪ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাজার মূলধন হারিয়েছে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ, ভ্রমণ, খাদ্য ও সেবা খাতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে।
গতকালও বেশিরভাগ খাত বাজার মূলধন হারালেও ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত সূচকটিতে কিছু বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।
সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে খুলনা পাওয়ার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, সাউথইস্ট ব্যাংক, লিন্ডে বিডি ও ম্যারিকো।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে সূচকের উল্লম্ফন দেখা গেলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারির পর থেকে সূচকে টানা পতন দেখা যায়, যা গত সপ্তাহেও অব্যাহত ছিল। তবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই সূচকে কিছু বাড়তি পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে ডিএসই। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে বিক্রি চাপ কিছুটা কমে আসায় সূচকের পতন ঠেকেছে বলে জানা গেছে।