পাটকল শ্রমিকরা ফের আমরণ অনশনে

অধিকার আদায়ে তুচ্ছ শীত

সারা দেশে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। রাত নামলে পারতপক্ষে ঘরের বাইরে বেরুচ্ছে না কেউই। লেপ-কম্বলের নিচে শান্তি খুঁজছে সবাই। কিন্তু শেষ ডিসেম্বরের এই শীতে অধিকারের দাবিতে ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন পাটকল শ্রমিকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ১১ দফা দাবি আদায়ে ফের আমরণ অনশনে বসেছেন খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিংদীর পাটকল শ্রমিকরা। এই দফার কর্মসূচর দ্বিতীয় দিনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-  

খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে বিক্ষোভ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকরা। গত রবিবার থেকে ফের শুরু হওয়া এই কর্মসূচি থেকে পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন তারা।  গতকাল খালিশপুর, আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্প এলাকায়

পাটকলে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেন প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক-কর্মচারী। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ১৫ জন শ্রমিক ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে খালিশপুর জুটমিলের পাট বিভাগের সরদার আ. গনি (৫৫) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) ভর্তি হয়েছেন। অনশনস্থলে শতাধিক শ্রমিককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। 

এদিকে নরসিংদীতে প্রচ- শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে একই দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে শ্রমিকদের আমরণ অনশন। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ ইউএমসি জুটমিলের শ্রমিকরা মিল গেইটের সামনে এ আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন আমাদের নরসিংদী প্রতিনিধি। অনশনে ইউনাইটেড-মেঘনা-চাঁদপুর (ইউএমসি) জুটমিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে কর্মসূচি উপলক্ষে শত শত শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শীত উপেক্ষা করে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ছে অনশনস্থলে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ১১ দফা দাবিতে ফের আমরণ অনশন শুরু করেছে চট্টগ্রামের ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা। গত রবিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি গতকালও দিনভর অব্যাহত ছিল আন্দোলন। চট্টগ্রাম নগরে শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি পালিত হয়েছে আমিন জুটমিলের সামনে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মিলের গেটে অবস্থান নিয়েছে তারা। রাত কাটিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। আমিন জুটের মিলের  ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি, বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহালসহ ১১ দফা দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। অনশনের ৪র্থ দিন ১৩ ডিসেম্বর রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে কর্মসূচি ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তী সময়ে ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) ও ২৬ ডিসেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দাবির ব্যাপারে কোনো সমাধান না হওয়ায় আবারও অনশন কর্মসূচির ডাক দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। ২৮ ডিসেম্বর খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিক সভার মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। 

গতকাল কর্মসূচি চলাকালে সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছেন, সরকার বারবার তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাস্তবায়ন করছে না। পূর্বনির্ধারিত ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। সমস্যার সমাধান করতে যদি মরতে হয় তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে।’