জয়পুরহাটে বিপুল অস্ত্রসহ আটকদের একজন যুবলীগ নেতা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আটক দুজনের মধ্যে একজন যুবলীগ নেতা। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রনজু সরকার (৩২) এবং তার সহযোগী আক্কাস আলী (৩০)। রনজু সরকার সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার মিন্টু সরকারের ছেলে ও আক্কাস আলী ক্ষেতলাল উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের সুরদ আলীর ছেলে।

উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ৬টি ককটেল, ২৫টি সামুরাই ও ১৩টি দেশীয় অস্ত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘সন্ত্রাসী পেশা ছাড়ি, আলোকিত জীবন গড়ি’- এ প্রত্যয় নিয়ে পাবনায় ১৪ জেলার ৫৯৫ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে জয়পুরহাটের ৮৩ জন। আটক যুবলীগ নেতা রনজু সরকার জয়পুরহাটের চরমপন্থী 'কাদামাটি' সংগঠনের সদস্য। গত ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জয়পুরহাটের 'কাদামাটি' সংগঠনের সদস্য হিসেবে রনজু সরকারও আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

জয়পুরহাট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রনজু ২০১৩ সালে জামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়। তারপরে সংগঠনের বিরুদ্ধে ও স্থানীয়ভাবে সে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় জেলা যুবলীগের নির্দেশে সদর উপজেলা কমিটি থেকে তাকে শোকজ করে রাখে।

তিনি আরও বলেন, জয়পুরহাটে কাদামাটি বলে কোনো গ্রুপ নেই।

এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামও বলেন, জয়পুরহাটে কোনো চরমপন্থী বা কাদামাটি বলে কোনো গ্রুপের অস্তিত্ব নেই, এরা মূলত সন্ত্রাসী।

জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহরিয়ার খাঁন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার জামালপুর চারমাথা বাজার এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন থানায় অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি চলমান মামলা রয়েছে।

জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা কী কাজে এগুলো অস্ত্র, গোলাবারুদ রেখেছিল তা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে। আর কাদামাটি গ্রুপের সদস্যের ব্যাপারেও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।