ভোটের ‘বদনাম’ ঘোচাতে চায় আওয়ামী লীগ

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীর চেয়ে দল ও সরকারের বিজয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা। এর কারণ হিসেবে ক্ষমতাসীন দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ জানুয়ারির এ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। বিষয়টা দলকে হারিয়ে প্রার্থীকে জেতানো বা প্রার্থীকে না জিতিয়ে দল ও সরকারকে জেতানোর মতো। অর্থাৎ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক-সমালোচনা রয়েছে তা দূর করা বা বিতর্ক-সমালোচনা আরও তীব্র করে আগামী চার বছর তার ঘানি টানা। কেন্দ্রীয় ওই নেতারা আরও বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এ দুই প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন বিতর্ক জিইয়ে রাখা ঠিক হবে কি না তা ভাবছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। নির্বাচন বিতর্কে জড়ালে কতটুকু ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বা দলীয় প্রার্থী পরাজিত হলে কী হতে পারে তা নিয়ে গোলকধাঁধায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি নতুন কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সভায় এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। সভাপতিমন্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, দলীয় কার্যালয়ে, দলের নেতাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা হলো আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট বিতর্ক দূর করার সুযোগ এসেছে আওয়ামী লীগের হাতে। সেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। যেনতেন নির্বাচন না দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফল যা আসে তা-ই আওয়ামী লীগের বিজয় হতে পারে। কেননা প্রার্থী বিজয়ী হলেও সামনের দিনগুলো নির্বাচন বিতর্ক সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকতে হবে নেতাদের। তিনি বলেন, প্রাথমিক একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করেই দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার। আর প্রার্থী পরাজিত হলেও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভোট বিতর্ক যেমন দূর হবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে দলের অধিকাংশ নেতাই চান সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। এতে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে। আওয়ামী লীগ যে ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছিল সেটিও আবার সামনে চলে আসবে। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে মেয়র হারলেও যেমন সরকারের ভিত নড়বে না তেমনি জিতলেও সরকার অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বিষয়টা তাও না। তাই নির্বাচন নিয়ে বিশ্বস্ততা বাড়ানোর যে সুযোগ আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে সেই সুযোগ লুফে নেওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অটল থাকা উচিত। অন্য নির্বাচনগুলোর মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আমলে নেওয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন এমন কৌশলে যেতে হবে। তিনি বলেন, গত নির্বাচনগুলোতে প্রশাসনিক কৌশল আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এবার তাদের সেই সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে সম্পাদমন্ডলীর ওই সদস্য।

সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্মোহ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। ভাবতে হবে ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উদযাপন করব আমরা। এ বছর সরকারবিরোধী কোনো মহলের হাতে কোনো ইস্যু তুলে দেওয়া আওয়ামী লীগের ঠিক হবে না। চলতি বছরটি রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাটমুক্ত রাখতে আমাদেরও কৌশলী হতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে যারা যেকোনো মূল্যে মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করার পক্ষে। তবে বড় অংশটি চাইছে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করে বিজয় নির্ধারণ করতে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ভেতর দিয়ে দলের মেয়র প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করাই আওয়ামী লীগের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, খেয়াল করলে দেখবেন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আমরা। তাই দক্ষিণে সাঈদ খোকনের পরিবর্তে শেখ ফজলে নূর তাপসকে বেছে নিয়েছি আমরা। উত্তরেও আতিকুল ইসলামকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনে করে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। ইস্যু করার জন্য নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করলে জনগণই তার জবাব দেবে।