শার্শায় ‘প্রেস’ স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য

অপরাধীরা ‘প্রেস’ লেখা মোটরসাইকেলে করে বেনাপোল, শার্শা, নাভারন ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রেস লেখা বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাসপা মোটরসাইকেল আরোহীদের দেখলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মনে হয় না এরা কোনো গণমাধ্যমের কর্মী। অথচ প্রেস লেখা মোটরসাইকেল চালিয়ে তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নাভারনের এক মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক আকবর হোসেন জানান, তার গ্যারেজে সম্প্রতি এক ব্যক্তি ‘প্রেস’ লেখা মোটরসাইকেল মেরামতসহ বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে আসেন। তিনি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে দেওয়ার ফাঁকে তাকে প্রশ্ন করেন কোন সংবাদপত্রে লেখেন। মালিক গ্যারেজ মালিককে জানান, তিনি একটি অখ্যাত পত্রিকার পরিচয়পত্র নিজে কম্পিউটার দোকান থেকে বানিয়ে নিয়েছেন।

বেনাপোল ও শার্শা শহরের বিভিন্ন সড়কে চোখ রাখলেই দেখা যায় ইংরেজি অক্ষর ও বাংলায় লেখা প্রেস মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাফেরা। এর আগে যশোর ও বেনাপোল প্রেস ক্লাবের নেতারা প্রেস লেখা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য পুলিশ সুপারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন প্রকৃত সংবাদকর্মী কি না তা জানার জন্য। তারা দাবি জানিয়েছিলেন, প্রেস লেখা মোটরসাইকেল ও ভ্যাসপা আরোহীদের আইনের আওতায় আনার জন্য।

সম্প্রতি যশোরে দুই নারী প্রেস লেখা একটি মোটরসাইকেলসহ কোতোয়ালি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের দখল থেকে ইয়াবা পর্যন্ত উদ্ধার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রেস লেখা বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল ও ভ্যাসপার মালিকের সংখ্যা এখন উপজেলায় অর্ধশতাধিক। যেগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ ভুয়া। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যশোরের পেশাদার সাংবাদিকরা।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান জানান, প্রেস লেখা মোটরসাইকেলে করে যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।