গাজীপুরের কালীগঞ্জে আহনাফ হোসেন আদিল নামে তিন বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় মরাশবাগ এলাকার মরাশবাগে জান্নাত নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আদিল একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি জুবায়ের আহম্মেদ শাহিনের একমাত্র ছেলে।
আদিলকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন মাদ্রাসাটির শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদ (৩০) এবং মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলাম (২২)। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসায় একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় নিহত আদিলের বাবা জুবায়ের আহম্মেদ সন্দেহভাজন চোর জুনায়েদ আহমেদকে চড়-থাপ্পড় মারেন। আর এর বদলা নিতেই জুনায়েদ আদিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত আদিলের বাবা মুফতি জুবায়ের আহম্মেদ শাহিন জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের জন্য মাদ্রাসা কর্র্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব দেয়। ওই ঘটনায় মাদ্রাসার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, ওই মোবাইল ফোনটি মাদ্রাসারই শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদ চুরি করেছেন। তখন বিষয়টি নিয়ে জুনায়েদকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চড়-থাপ্পড় দেন জুবায়ের। এর এক দিন পর গত বুধবার বিকেলে আদিল মাদ্রাসার মাঠে খেলতে যায়। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশপাশে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মসজিদের মাইকে আদিলের নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে আদিলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। কিন্তু শিক্ষক জুনায়েদ আহমেদ তার কক্ষের চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় জুনায়েদের কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে তার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কক্ষের ওয়াল কেবিনেটের একটি ড্রয়ারে আদিলের লাশ পাওয়া যায়। তখন উপস্থিত সবার জেরার মুখে জুনায়েদ ও খাইরুল আদিলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে মাদ্রাসা কমিটির সহায়তায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আদিলের লাশ উদ্ধার এবং তাকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে শিক্ষক জুনায়েদ ও মুয়াজ্জিন খাইরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অধ্যক্ষ জুবায়ের বলেন, ‘জুনায়েদ আমার ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আর এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে মুয়াজ্জিন খাইরুল।’
কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশুটির গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত রয়েছে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোবাইল চুরির জন্য শিক্ষক জুনায়েদ আহমেদকে চড়-থাপ্পড় মারার প্রতিশোধ নিতেই তিনি প্রিন্সিপালের শিশুপুত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদিলের মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলের দশালিয়া গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয়।