ভারতে নাগরিক আইন সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন নই : বিজিবি ডিজি

ভারতে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘ভারতে নাগরিক আইন সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, অবৈধভাবে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে। আমরা এটা সফলভাবেই করে যাচ্ছি। এনআরসি ও সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাহিনীটির প্রধান।

গত বছর ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে ওই সীমান্ত সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি ডিজি বলেন, ‘সীমান্ত সম্মেলনে এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে কোনো টেনশন নেই।’

ভারতে নাগরিক আইন নিয়ে সংকট তৈরির পর গত দুই মাসে দেশটি থেকে বাংলাদেশে মোট ৪৪৫ জন অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে জানিয়ে মেজর জেনারেল সাফিনুল বলেন, ‘গত এক বছরে এ সংখ্যা প্রায় এক হাজার। তবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই বাংলাদেশি। যেসব বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে, তারা বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে পাড়ি দিয়েছে বা পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।’

বিজিবিপ্রধান জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর এবং সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়েই বেশিরভাগ অবৈধ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ প্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ২৫৩টি মামলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন দালালও আছে।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবে বিদায়ী সালে সীমান্তে মোট ৩৫ জন মারা গেছেন। ভারতের হিসেবে তা আরও কম। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশ এক হয়েছে।’ বিজিবিপ্রধান আরও বলেন, ‘ভারতের কোনো সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের কোনো বেড়া দিইনি। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৭০ কিলোমিটার বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর কাজ শুরু হবে।’

দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্ত খুবই জটিল উল্লেখ করে মেজর জেনারেল সাফিনুল বলেন, ‘কারও রান্নাঘর বাংলাদেশে, আবার থাকার ঘর ভারতে। ভারতের সীমান্ত এলাকার নাগরিকদের অনেকের আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বাংলাদেশে। আবার বাংলাদেশের অনেকের নিকটাত্মীয়র বাড়ি ভারতে। এসব নাগরিকরা জরুরি প্রয়োজনে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নিতে চায়। তাই ভিসার পরিবর্তে তাদের জন্য অল্প সময়ের তাৎক্ষণিক পাস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

তার বাহিনীকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণেই এটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত অপরাধ দমন এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। শিগগিরই দুটি হেলিকপ্টার কিনছে বিজিবি। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টার আগামী ১৭ জানুয়ারি আসবে। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত এবং সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তায় রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের দিক দিয়ে আমরা মিয়ানমারের চেয়ে দুর্বল নই। আমাদের স্পিডবোটও অত্যন্ত উন্নতমানের।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি ডিজি বলেন, ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া বিজিবি কখনো গুলি ছোড়ে না। কোনো বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আমাদের অ্যাপস “রিপোর্ট টু বিজিবি”র মাধ্যমে অবহিত করুন। অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা গোপন রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজিবিপ্রধান আরও জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৭৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গত সীমান্ত সম্মেলনে ভারতকে জানানো হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে বিএসএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।