রোহিঙ্গারা মাদকসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘তাদের জন্য কক্সবাজার অঞ্চলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে আমাদের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজের ড্রপ আউট বেড়ে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড’ শীর্ষক ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে কিন্তু নিচ্ছে না। আমরা দুই লাখ লোকের লিস্ট দিয়েছি। তারা আট হাজার নিতে চায়। মিয়ানমার সরকার ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে তারা সিরিয়াস নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব জনমত গঠনে কাজ করছি। বিশ্বের ১৩৪টি দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। মাত্র সাতটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এবং বিশ্ব জনমত এক করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চাই। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকারের ৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই অর্থ আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারতাম। বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তা যথেষ্ট নয়।’
‘ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড’ শীর্ষক প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, শিল্পকলা একাডেমি ও দৈনিক ভোরের কাগজ। আট দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে চারজন চিত্রসাংবাদিক কে এম আসাদ, সুমন পাল, মাহমুদ হোসেন অপু ও সালাউদ্দিন আহমেদ পলাশের তোলা ১২১টি চিত্র স্থান পেয়েছে। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী।
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। প্রতিক্রিয়া জানান চিত্রসাংবাদিক কে এম আসাদ। উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ অনেকে। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা।