কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে সাক্ষাতের অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদার সঙ্গে তার অন্য স্বজনদেরও দেখা করার অনুমতি কারা কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, নাতনি জাহিয়া রহমান ও জাফিরা রহমান। তারা উঠেছেন গুলশানে খালেদা জিয়ার ভাড়া বাসায়।
রিজভী বলেন, প্রায় ৩১ দিন পর ১৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাৎ হয়। তারপর ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়দের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সরকারের নেক নজরে থাকার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ দেশনেত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, এটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই সরকার আইন, আদালত ও বিচারাঙ্গনকে নিজেদের কবজায় নিয়ে খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করেছে। রিজভী বলেন, ২৭ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আপন বোন বেগম সেলিমা ইসলাম, পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, নাতনি জাহিয়া রহমান, জাফিরা রহমান, নাতি শামীন ইসলাম, রাখীন ইসলাম ও নাতনি আরিবা ইসলামকে সাক্ষাতের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। তিনি বলেন, এমনিতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ, এই মুহূর্তে নিকটজনেরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলে তিনি মানসিক শান্তি পেতেন।
৯০ শতাংশ জনগণ বিএনপিকে সমর্থন করে নাÑ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ সমর্থন করে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রে কত কুকুর দাঁড়িয়ে ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শাহিদা রফিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ। পরে সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রিজভী। মিছিলটি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড় হয়ে আবার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।