ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে এখন হইচই হবে, মিছিল হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নির্বাচনের পরিবেশ নেই।
এখন থেকেই বিএনপির ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের ধরপাকড় শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বংশাল থানা বিএনপির সভাপতি তাজউদ্দীন আহমেদ তাইজুলকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ‘সিটি নির্বাচন লোকদেখানো নির্বাচন। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। এই নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়েছি কারণ আমরা জনগণের একটি রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, যদি দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে এই সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করবে। কিন্তু সেটা তারা করতে দেবে না। গণতন্ত্রের যে মৃত্যু ঘটেছে এই দেশে, এটা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করবে।’
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিজিবির ডিজি বললেন, অনুপ্রবেশকারীরা সব বাংলাদেশি। ভারত সরকারের নাগরিক অধিকার আইনে সবচেয়ে বড় ভিকটিম হবে বাংলাদেশের মুসলমানরা। যারা বহু বছর আগে ভারতে চলে গেছেন, ভারতের নাগরিক হয়েছেন, ভোটার হয়েছেন, ভোট দিয়েছেন, আজকে তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আমাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই সরকার এত নতজানু হয়েছে যে প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, তারা এটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে। এর থেকে লজ্জার কথা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আর কিছু হতে পারে না।’
‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং আজকের বাস্তবতা, বেগম খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন কিন্তু প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ জামিন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে তাঁতী দল। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।