কেনিয়ার লামু কাউন্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটিতে সোমালিয়াভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল শাবাব হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় ভোররাতের দিকে হামলাটি শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্র্তৃপক্ষ।
আল শাবাবের প্রকাশ করা ছবিতে জ্বলন্ত বিমানের কাছে জঙ্গিদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ভোররাতে হামলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরও দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। লড়াইয়ে কেনীয় বা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর কেউ হতাহত হয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে চার হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে কেনিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে।
আল শাবাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় সাতটি বিমান ও তিনটি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। বিবৃতির সঙ্গে জ্বলন্ত বিমানের ছবি দিয়েছে তারা। যেখানে কাছেই তাদের যোদ্ধাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কেনিয়ার লামু কাউন্টির “ক্যাম্প সিম্বা” নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে ভোরের দিকে নির্ভীক এক অভিযান শুরু করেছে হারকাত আল শাবাব আল মুজাহিদিনের ‘শহীদ ব্রিগেডের’ অভিজাত যোদ্ধারা। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ কর্মকর্তা ও কেনীয় সেনার আবাস এই ঘাঁটি এ অঞ্চলে ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ক্রুসেডের অন্যতম লঞ্চিং প্যাড।’
কেনিয়ার সামরিক মুখপাত্র কর্নেল পল জুগুনা জানিয়েছেন, অন্তত চার হামলাকারী জঙ্গি নিহত হয়েছে। এক টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড মান্দা বে এয়ারফিল্ডে হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ‘ঘটনার বিস্তারিত জানার পর’ আপডেট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
লামু কাউন্টির ওই ঘাঁটি কেনিয়ার সেনাবাহিনীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য বাহিনীও ব্যবহার করে।
আল শাবাবের সন্ত্রাসীরা এয়ারস্ট্রিপ হয়ে ঘাঁটিতে ঢোকার চেষ্টা চালায়। হামলার পর ঘাঁটিটির আশপাশের আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে বলে আবদুল্লাহ বারঘাস নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। মান্দা দ্বীপের সংঘর্ষটি তিনি আরও অনেকের সঙ্গে পাশের লামু দ্বীপ থেকে দেখছিলেন বলে জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার ঘনিষ্ঠ আল শাবাব সোমালিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে উৎখাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।