রাজধানীতে সক্রিয় অবৈধ গ্যাস সংযোগ চক্র

রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। মাঠপর্যায়ে তাদের এজেন্ট রয়েছে। গ্রাহক খুঁজে তারা তিতাস গ্যাস কোম্পানির নামধারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর অগ্রিম দিলেও গ্রাহকের কপালে সংযোগ আর জোটে না। এভাবে রাজধানীতে ১০ বছর ধরে প্রতারণা করে আসা ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শনিবার যাত্রাবড়ী থানায় প্রতারণার শিকার মো. আল মাসুদের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির (ঢাকা মেট্রো-পূর্ব) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন (ডেমরা ইউনিট) দেশ রূপান্তরকে জানান, চক্রটি তিতাস কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সেজে গ্যাস সংযোগের প্রতারণা করে আসছে। প্রাথমিক তদন্তে শহরজুড়ে মাঠপর্যায়ে এদের জনবল পাওয়া গেছে। তারা গ্যাস সংযোগ নিতে ভোগান্তির শিকার গ্রাহক জোগাড় করেন। রাজধানীর মিরপুরসহ অন্যান্য এলাকায় চক্রের অন্তত ১০ সদস্যের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে তিতাস গ্যাস কোম্পানির কেউ যুক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতারণার শিকার হোটেল ব্যবসায়ী মো. আল মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হোটেলের বাবুর্চির মাধ্যমে মাস তিনেক আগে কিছু লোকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারা নিয়মিত হোটেলে খাবার খেতেন। পরিচয়ের পর গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেন। কাগজপত্রও করে দেন। কিন্তু গত মাসে সংযোগের জন্য কারওয়ান বাজার তিতাস অফিসে গিয়ে জানতে পারি সব কাগজপত্র ভুয়া। পরে থানায় মামলা করি।’

বংশালের বাসিন্দা আল মাসুদ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, শাহবাগ থানাধীন ‘ক্যাফে আল মাসুদ’ হোটেলে ৩০০ সিএফটি গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নামে গত ৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতারকরা তার কাছ থেকে ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

ওই মামলার সূত্র ধরে যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকা থেকে মো. শাহাদত খান (৪৫), আফতাব উদ্দিন রাহাত (২৪), মো. জাহিদুর রহমান ওরফে জাবেদ (৪৩), জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও ফরিদ হোসেন ওরফে আসলামকে (৪০) সিআইডি গ্রেপ্তার করে। এ মামলার আসামি মোশাররফ হোসেন, ইউনুস মিয়া ও জাকির হোসেনসহ চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান সিআইডির (ঢাকা মেট্রো-পূর্ব) বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমা।