সৌদি আরব থেকে গত দুদিনে দেশে ফিরেছেন ১৫ নারীসহ ১৭৬ বাংলাদেশি নাগরিক। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে সৌদি এয়ারলাইনসের আলাদা দুটি ফ্লাইটে দেশে ফেরত আসেন ১০৬ জন, গতকাল রবিবার ফেরেন আরও ৭০ জন। এ নিয়ে গত চার দিনে দেশে ফিরলেন মোট ৩১৭ জন। এছাড়া গতকাল রাতে আরও শতাধিক বাংলাদেশির দেশে ফেরত আসার কথা ছিল।
গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে নিয়োগকর্তার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিনা আক্তার ও শামীমা বেগম। তারা প্রথমে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন জেদ্দার বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া আক্তার ও খাদিজা, সিরাজগঞ্জের রাশেদাসহ দেশে ফিরেছেন ১৫ জন নারী।
সৌদি আরবে পুরুষ কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। গত শনিবার ফেরা শহিদ মিয়া (৪০) জানান, আড়াই বছর আগে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে টাইলস ফিটিংয়ের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কর্মস্থল থেকে ফেরার সময় পথ থেকে ধরে নিয়ে কাজের পোশাকেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
চার মাস আগে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হানিফ গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। পরে পাসপোর্টে তিন মাসের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তাকে আটক করে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানের মালিক দায়িত্ব না নেওয়ায় দেশে ফেরত পাঠানো হয় হানিফকেও। একই সঙ্গে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের হামিদুল্লাহ, কুমিল্লার তোফাজ্জল ও সিলেটের শুভ দেবনাথসহ অনেকে।
দেশে ফেরা অনেক কর্মীরা অভিযোগ করেন, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা দেওয়া হলেও তারা আকামা করে দেননি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কর্মীর দায়-দায়িত্ব না নিয়ে ভিসা বাতিলের কথা বলে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলছে প্রশাসনকে।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ২৪ হাজার ২৮১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর নতুন বছরের শুরুর চার দিনে ফিরেছেন ৩১৭ জন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। ইউএনবি।