মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সক্রিয় গ্রাহক বেড়েছে ২১ শতাংশ

জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। দিন দিন গ্রাহকসংখ্যার সঙ্গে বাড়ছে লেনদেন। পাশাপাশি বেড়েছে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, বর্তমানে ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। ২০১৯ সালের নভেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯৪ হাজার, যা তার আগের মাস অক্টোবরে ছিল ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৯৫ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ১২ লাখ।

আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার, যা আগের মাসের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি। অক্টোবরে সক্রিয় গ্রাহক ছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ১১ হাজার।

জানা গেছে, টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এমএফএসে গত নভেম্বরে ২৩ কোটি ৪ লাখ ২৩ হাজার ১২০টি লেনদেনের মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৬৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭১।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এখন পছন্দের মাধ্যম।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে জমা পড়েছে ১৩ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। উত্তোলন করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৯ হাজার ৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪৩৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সরকারি পরিশোধ ২৯৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া অন্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।