‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিক পণ্য

ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ হাইকোর্টের

‘ওয়ান টাইম’ (একবার ব্যবহার্য) প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এজন্য এক বছর সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে দেশের সব উপকূলীয় এলাকায় একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্যসহ পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, বহন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এ সময়ে মধ্যে সারা দেশের হোটেল, মোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ২০০২ সালের আগস্টের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যে ধরনের প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল সেসবের উৎপাদন ও কারখানা বন্ধসহ যন্ত্রপাতি জব্দের নির্দেশনার পাশাপাশি আইনটিকে কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এ আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হলো কি না সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহার ও উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) ১১টি সংগঠনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

আইনজীবীরা জানান, রুলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন ও এসব প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি এসবের বিকল্প ব্যবস্থা নির্ধারণে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বন ও পরিবেশ সচিব, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব, বস্ত্র ও পাট সচিবসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার ও যত্রতত্র তা ফেলে রাখার ফলে দেশের পরিবেশ, প্রাণিকুল ও প্রতিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তা শুনানিতে তুলে ধরে এগুলো নিষিদ্ধের আবেদন করা হয়। বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহারের বিষয়টির কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রুয়ান্ডাতে বিমানবন্দরে নামলেই গোটা শরীর পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, কেউ পলিথিন বা প্লাস্টিকসামগ্রী বহন করছেন কি না। এমনকি ভারতের কেরালাতে এ ধরনের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশেও হাইকোর্টের এ আদেশ ও বিদ্যমান আইনে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধ সম্ভব।’