পেঁয়াজের দাম ফের বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পঞ্চম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ক’দিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মাঝে কমেছে, আবার বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কীৃ এটা আমি বুঝি না। যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। এটা তো হতে পারে না।’ রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানেও মনে হয় তোমাদের ভূমিকা থাকতে পারে। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে কী না পারে। ছাত্ররা যদি মনে করে বাংলাদেশে ডিসিপ্লিন আসবে তাহলে মনে হয় পারবে।’
সমাবর্তনে ৩৪ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক
উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের যে পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, এর বাইরে যে কী একটা অবস্থা সেটা বলার দরকার নেই। একই দেশ, একই ঢাকা শহর। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যদি এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পারেৃএকটা গাড়ি ঢুকলে সিগন্যাল ক্রস করে কেউ যায় না। বেল্ট ঠিকমতো বাঁধে। অযথা হর্ন বাজায় না। বাইরে গেলেই তখন দেখা যায় কোনো নিয়মকানুন নেই।’ আবদুল হামিদ শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা যখন বোতলে পানি খাও সেটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ফেল না। এর বাইরে গেলেই ছুড়ে ফেলছ। বিদেশে গেলে কেউ স্টেশনে থুথু ফেলার সাহস পায় না। টিস্যু পেপারে থুথু ফেলে পকেটে রাখে, পরে ডাস্টবিনে ফেলে। আর আমাদের এখানে কোথায় ওয়ালে পড়ল, না কারও শরীরে পড়লৃএই অবস্থা। এই নেচার পরিবর্তন করতে হবে। রাস্তাঘাট এমন অপরিষ্কার থাকে, মারাত্মক অবস্থা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই এই অবস্থা। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র যারা আছে তারা যদি একটা ক্যাম্পেইন কর, মানুষকে বলো, যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলা যাবে না। এটা করতে পারলে আমার মনে হয় বাংলাদেশ একটা ডিসিপ্লিনে আনতে পারব। না হলে বাংলাদেশ একটা ডাস্টবিন মনে করে চলছি।’
কর্মভিত্তিক শিক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য নিজেদের আরও যোগ্য করে তৈরির গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। এ যুগে চাহিদা ও কর্মভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’ বিডিনিউজ।