ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত

পাকিস্তান সফর নিয়ে নিশ্চয়তার মেঘ এখনো কাটেনি। এর মধ্যে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের অভিজ্ঞদের মতামতের ওপরই নির্ভর করছে পাকিস্তানে দল পাঠানোর বিষয়টি। ক্রিকেটারদের ইচ্ছার বিষয়সহ অন্য দিকগুলো নিয়ে ১২ জানুয়ারি বিসিবি বোর্ড সভায় আলোচনা করবে। সেখানেই পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে পাকিস্তানে কঠোর নিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পরও টেস্ট খেলতে না যাওয়ার সন্তোষজনক কারণ জানতে চেয়েছে পিসিবি বিসিবির কাছে।

বিসিবি টেস্ট সিরিজটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে করার দাবি তুলে আসছে, যা বারবারই প্রত্যাখ্যান করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার ব্যাপারে মত দেয় বিসিবি। ওই সিরিজ শেষে পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর পরবর্তীতে টেস্টের জন্য দল পাঠাতে চায় বোর্ড। এখানেও আপত্তি পিসিবির। তারা বাংলাদেশকে টানা সিরিজ খেলার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর হবে কি না তা শিগগিরই জানা যাবে। জানা গেছে, এরই মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে পাকিস্তান সফর নিয়ে আলোচনা করছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ১২ জানুয়ারির সভায় ক্রিকেটারদের মতামত বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হবে। বিসিবিপ্রধান আগেই জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের কয়েকজন পাকিস্তান সফর করতে নারাজ। তাদের জোর করার কোনো প্রশ্নই আসে না। অবশ্য এটাও জানা গেছে, বাংলাদেশ দলের একজন টেস্ট স্পেশালিস্ট পাকিস্তান সফর করার জন্য নিজের সম্মতি দিয়েছেন। বোর্ড সভা পাকিস্তানে টেস্ট খেলার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিলে ১৮ জানুয়ারি দলকে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়তে হবে।

এদিকে গত সোমবার পাকিস্তানের একজন সাংবাদিক পিসিবির বরাত দিয়ে একটি টুইট করেন। যাতে লেখা ছিল, ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের এই সিরিজ খেলতে না চাওয়ার সঠিক কারণ জানতে চেয়েছে পিসিবি। বিসিবিকে এক বার্তায় অনুরোধ করে বোর্ডটি না আসার সঠিক তথ্য জানতে চেয়েছে। একই টুইটে বিসিবি এখনো কোনো উত্তর দেয়নি বলেও জানিয়েছে তারা।

এদিকে জিম্বাবুয়েকে এক মাস আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেই আনার চেষ্টা করছে বিসিবি। মার্চে ওই সফর হওয়ার কথা। কিন্তু এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দুই টি-টোয়েন্টির বিশেষ সিরিজ হবে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজের সূচি কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে জিম্বাবুয়েকে আনার সময়টা বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের সময়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যার কারণে পাকিস্তান সিরিজের বদলে এই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। অবশ্য বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, পাকিস্তান সিরিজের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে সিরিজের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটি আলাদা সময়ে। মার্চের বিশেষ সিরিজের কারণে জিম্বাবুয়েকে আগেই আনার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।