দেশের প্রথম সারির শিল্পপতিদের সঙ্গে গত সোমবার বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আর কী কী করা দরকার, তা নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন শিল্পপতিরা। সরকার বলছে, আলোচনা হয়েছে মূলত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুকেশ আম্বানি, রতন টাটা, সুনীল ভারতী মিত্তাল, গৌতম আদানি, অনিল আগরওয়াল, আনন্দ মহিন্দ্রা থেকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন, টিভিএস চেয়ারম্যান বেণু শ্রীনিবাসন, এলঅ্যান্ডটি প্রধান এ এম নায়েক।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। করপোরেট কর কমিয়েছে। পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ, গাড়ি ও আবাসন শিল্প চাঙ্গা করতে নানা সুবিধা, ব্যাংকে নতুন পুঁজি জোগানো, ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক একীভূত করে চারটি তৈরির মতো সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা ও শিল্পে বিনিয়োগও বাড়েনি। মন্থর হয়ে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। এদিকে গতকাল প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশেই আটকে থাকবে। গত বছর অর্থনীতির হার খারাপ হলেও প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
শিল্প মহলের মতে, চাহিদা না থাকলে নতুন বিনিয়োগ হবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি শিল্পের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে দেশের প্রতিটি কোনে ব্যবসা ছড়াতে পারেন তারা।
ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, ‘এই সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে প্রত্যাশা নেই। তেলের দাম বাড়লে সংকট আরও গভীর হবে। সেটা মোকাবিলার পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। চিদাম্বরম বলেন, ‘করপোরেট কর কমিয়েও বিনিয়োগ আসেনি। কেনাকাটা কমেছে। শেষ তিন মাসে খরচ করার টাকাই নেই।’