ক্লাস শুরু হওয়ার আগে বই রাখার জন্য চাই ব্যাগ, পোশাক, জুতা এবং নানা অনুষঙ্গ। স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যাগ, বই-খাতা, কলম, পেনসিল, টিফিন বক্স, পানির বোতল কী না লাগে। বছরের শুরুতে কী কী কিনবেন তার খবর দিলেন এম আর করিম
স্কুলব্যাগ : স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রধান দরকারি জিনিসটি হচ্ছে ব্যাগ। বই-খাতা থেকে শুরু করে টিফিন বক্স, পানির পাত্র সবই নিতে হয় ব্যাগে করে। তাই ব্যাগটা হওয়া চাই টেকসই ও সুন্দর। শিশুদের জন্য অনেক সময় ব্যাগ বহন করা কষ্টকর ব্যাপার হয়। সেটা বিবেচনা করেই ব্যাগ কেনা ভালো। নিউ মার্কেটের এনাম ট্রেডার্সের ব্যাগবিক্রেতা সাইদুল জানালেন, ‘ হালকা ওজনের স্কুলব্যাগ বেশি পছন্দ করে সবাই। একটু বড়রা স্টাইলিশ স্কুলব্যাগ চাইলেও, শিশুদের কাছে কার্টুন আঁকা ব্যাগই বেশি পছন্দ। বর্তমানে বারবি, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, পোকেমন, টম অ্যান্ড জেরি, মিকি মাউসের ব্যাগ বেশি চলছে। এসব ব্যাগের বেশির ভাগই চীনে তৈরি।’ তিনি আরও জানালেন, বিদেশি ব্যাগ বেশি চললেও বাচ্চাদের দেশীয় ব্যাগগুলো বৈচিত্র্য বা স্টাইল কম হলেও এগুলোই বেশি টেকসই।
জুতা : দেশীয় সবগুলো ব্যান্ড বাটা, এপেক্স, অরিয়ন, জেনিস সবই নতুন বছরে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সাদা-কালো দু’ধরনের কেডস নিয়ে এসেছে। এর সঙ্গে বোনাস হিসেবে টিফিন বক্স ও পানির পটও কেউ কেউ উপহার দিচ্ছেন। বা-মা’র সঙ্গে নতুন জুতা কিনতে বসুন্ধরা মার্কেটে এসেছে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের ক্লাস সিক্সের ফাহাদ আমান । সে জানাল, ‘আম্মু বলেছিল, ভালো রেজাল্ট করলে সবকিছু নতুন কিনে দেবে।’ বসুন্ধরা সিটির জুতার মার্কেটে গত শুক্রবার দেখা গেল বাচ্চাসহ মা-বাবার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
পানির পট, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স : সরকারি ব্যাংকে কর্মরত ইশারাত জাহান মেয়েকে এবারই প্রথম স্কুলে দিয়েছেন। বললেন, ‘আমার মেয়ের বারবি অনেক পছন্দ, তাই ম্যাচিং করে ওর স্কুলসামগ্রী কিনে দিয়েছি। বারবির ব্যাগ থেকে শুরু করে পানির পাত্র, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স এমনকি মাথার রাবারের ব্যান্ডটাও বারবির।’ ছবি আঁকার অভ্যাস শিশুর কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিশুর জন্য চাই ভালো মানের রং পেনসিল। এ ছাড়া নানা ধরনের, রঙের শার্পনার, ইরেজারের প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ সাধারণত একটু বেশি থাকে। তাই এগুলো কেনার সময় বাচ্চাদের পছন্দকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এসব রাখার জন্য আছে হরেক রকম পেনসিল বক্স। সব জিনিস বক্সের ভেতর সাজিয়ে রাখলে শিশু দরকারের সময় সহজেই খুঁজে পাবে এবং এর ফলে গুছিয়ে রাখতে শিখবে। বাজারে বিভিন্ন ডিজাইনের ছোট-বড় পানির পাত্র পাওয়া যায়। পানির পাত্রগুলো দুই রকমের। একটিতে পানি ঠাণ্ডা থাকে, অন্যটিতে গরম থাকে দীর্ঘক্ষণ। প্লাস্টিক, স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি পানির পাত্র পাওয়া যায়।
টেবিল চেয়ার : বাচ্চাকে স্কুলে দিচ্ছেন, পড়াশোনার জন্য টেবিল-চেয়ার না হলে কি চলে! না বাচ্চাদের পছন্দসই পরিবেশ দিতে পারলে পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়বে। তাই শিশুদের উপযোগী টেবিল-চেয়ারও তৈরি হচ্ছে। আসবাবের দোকানে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের কার্টুন, ফুল, ফল, পশুপাখি, চাঁদতারাসহ নানা প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা টেবিল। এসব টেবিলে একই সঙ্গে রয়েছে কলমদানি, ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, বণর্মালা। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব টেবিল ছোট-বড় করা যায়। চেয়ারের ক্ষেত্রেও একই কথা। আরামদায়ক ও বিভিন্ন কালারের ছোট ছোট চেয়ার পাওয়া যায়, সেগুলোই বাচ্চার পছন্দ অনুযায়ী কিনুন।
দরদাম : ব্যাগ : বাজারে দুই ধরনের স্কুলব্যাগ পাওয়া যায়। দেশি ও বিদেশি। বিদেশিগুলোর বেশির ভাগই চীনে তৈরি। দেশি ব্যাগের দাম ২৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বিদেশি ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মতো।
জুতা : বাটা, এপেক্স, অরিয়নের মতো ব্র্যান্ডগুলোতে রয়েছে নানা ধরনের স্কুলের জুতা। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা পাওয়া যায়। ছেলেদের স্কুলের জুতার দাম ৪৫০ থেকে শুরু। মেয়েদের স্কুলের জুতা ৩৯০ থেকে শুরু।
স্কুলসামগ্রী : হরেক রকম টিফিন বক্স, পানির পাত্র, পেনসিল বক্স পাওয়া যায়। এসবের বাজার মূলত চায়নায় তৈরি সামগ্রীর দখলে। আকার ও মান অনুযায়ী পানির পাত্রের দাম ৭৫ থেকে ৪২৫ টাকা। টিফিন বক্স ৭৫ থেকে ৩০০ টাকা। পেনসিল বক্স পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। আর রঙের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানির রং পেনসিলের দাম পড়বে ৫০ থেকে ২৮০ টাকা। টেবিল-চেয়ার : টেবিলের দাম ৩০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা। চেয়ার ৩০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
কোথায় পাবেন : নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা সিটিসহ রাজধানীর প্রায় সব মার্কেট এবং বড় বিপণিবিতানগুলোতে। আঁকাআঁকির রং, পেন্সিল, ইরেজার, বোর্ডের জন্য শাহবাগের আজিজ মার্কেটের তিনতলায় যেতে পারেন। আর ব্যাগসহ স্কুলসামগ্রী সুলভমূল্যে কিনতে চাইলে চকবাজারে ঢুঁ মারতে পারেন। সবকিছু পাবেন পাইকারি মূল্যে।
পড়ার টেবিল-চেয়ার : অটবি (কিডসজোন), হাতিল, নাভানা, পারটেক্স, হাইফ্যাশন, মেডালিয়ন, তানিন ফার্নিচারে পাওয়া যাবে পড়ার টেবিল-চেয়ার। পান্থপথ, রোকেয়া সরণির ফার্নিচারের দোকানগুলোতেও পাওয়া যাবে।