গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ তীরে প্রথম ধাপের ইজতেমা শুরু হবে শুক্রবার। এ পর্বে যোগ দিচ্ছেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। আগামী রবিবার আখেরি মোনাজাত দিয়ে শেষ হবে এ পর্ব। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সা’দ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমা শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শেষ হবে এবারের ইজতেমা।
বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ১৯৬৩ সাল থেকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা এই ইজতেমায় অংশ নেন বলে এটি বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে পরিচিতি পায়। আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ইজতেমা হবে ৫৫তম। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইজতেমা তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত হতো। মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১০ সাল থেকে দুই দফায় তিন দিন করে ইজতেমার আয়োজন করা হতো। তাবলিগের আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভি ও মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের বিরোধের কারণে গত বছর থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমার আয়োজন করতে শুরু করে।
এবারের প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে এরই মধ্যে দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। বুধবার প্রায় সব জেলার জিম্মাদাররা ময়দানে এসে উপস্থিত হন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. এসএম তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে সভাপতিহীন বিশ্ব ইজতেমার এত বড় আয়োজন প্রতি বছরই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। এবারও মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য মাঠ প্রায় প্রস্তুত। দেশব্যাপী আলেম-ওলামাদের ব্যাপক প্রচারের ফলে এবারে অনেক মুসল্লির সমাগম ঘটার সম্ভাবনা থেকে ইজতেমার ময়দানে খিত্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এবার ৬৪টি জেলার জন্য পুরো ইজতেমা ময়দানকে ৮৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ছয়টি খিত্তা রিজার্ভ রাখা হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্র অথবা কোনো জেলার মুসল্লি বেশি হলে সেসব খিত্তায় তাদের বসার ব্যবস্থা করা হবে।
তারা আরও জানান, শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হবে। এরই মধ্যে ময়দান সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশ, বাটা কোম্পানির মাঠ এবং হোন্ডা ভবনের খালি অংশও ইজতেমার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
নেত্রকোনা থেকে আসা মুসল্লি সিরাজুল ইসলাম (৬২) বলেন, প্রথম তিন দিনের ইজতেমায় যোগ দিতে তার সঙ্গে এসেছেন আরও ২৫ মুসল্লি। তারা ইমানি দায়িত্ববোধ থেকেই এখানে এসেছেন।
ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমায় মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার লোকজন মাঠ সমতল, মাইক ও ইলেকট্রিক সংযোগ দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তুরাগ নদের ওপর সেনাবাহিনী ছয়টি অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছে। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি ক্যাম্পগুলো তৈরিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ময়দানে আসা বিদেশিদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নিবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে।
এবার ইজতেমা ময়দানে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকবে প্রায় সাড়ে আট হাজার পুলিশ সদস্য।