১৫০ দিনের বেশি ওএসডি নয়, পুনর্বহালের নির্দেশ

সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি -বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা হয়েছে, তাদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয় পর্যালোচনা ও আইন  অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের জুনে হাইকোর্টের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার।

রিটকারীর আইনজীবী অনিক আর হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্মকর্তাদের যে পদ থেকে ওএসডি করা হয়েছে তাদের সেই পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এসংক্রান্ত কমিটি পর্যালোচনা করে দেখবে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগের পদেই রাখা যায় কি না। তারা একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখবে ওএসডি কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে কি না। যদি তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয় তাহলে কমিটি তার পদোন্নতিরও সুপারিশ করবে।’

হাইকোর্ট রায়ের নির্দেশনায় বলেছে, ১৫০ দিনের বেশি যারা ওএসডি হিসেবে রয়েছেন, তাদের অবিলম্বে নিজ

নিজ পদে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। একজন জ্যেষ্ঠ সচিব হবেন কমিটির প্রধান। আর কমিটি গঠনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবেন জনপ্রশাসন সচিব। রায় পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতিবিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যাবেন।

ওএসডির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে নাÑ এমন যুক্তিতে ২০১২ সালের ৩১ মে সাবেক সচিব আসাফ-উদ-দৌলা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কী কী কারণে ওএসডি করে রাখা যায়, সে বিষয়ে এবং সময়সীমার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য ওএসডি করে রাখা হচ্ছে যা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে অনুপার্জিত আয় কোনো ব্যক্তি ভোগ করতে পারবে না। কিন্তু যাদের  ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, তারা কোনো দায়িত্ব ছাড়াই সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে তাদের বেতন দেওয়া জনস্বার্থ ও সংবিধান পরিপন্থী।

ওই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুন রুল জারি করেছিল মির্জা হোসেইন হায়দারের (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে নির্ধারিত কারণ ও সময়ের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে রাখা এবং তাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা দেওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া ওএসডি করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কেন করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি ১০ বছরে ওএসডি করা কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়েছিল হাইকোর্ট। এরপর সরকারের পক্ষে এ তালিকা আদালতে দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করেছেন। তবে, নীতিমালার বিষয়ে আদালত কিছু বলেননি। শুধু কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। এই কমিটি তদন্ত করে ১৫০ দিনের বেশি যেসব কর্মকর্তা ওএসডি হিসেবে রয়েছেন তাদের আইন অনুযায়ী পুনর্বহাল করবে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে ১৫০ দিনের বেশি কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা যাবে না। আমরা এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করব।’