আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা একেবারেই কম বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তারপরও আমি বলব, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের
প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সুইডেনভিত্তিক বাংলাভাষার একটি অনলাইন পোর্টালে গত ডিসেম্বরে ওবায়দুল কাদেরের ঘড়ি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গতকাল এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘আমার যত ঘড়ি আছে একটাও আমার নিজের কেনা না, সবই কর্মীদের ভালোবাসা, উপহার। ধরেন বিদেশে গেলেন আপনি এসে আমাকে একটা ঘড়ি দিলেন, আমি নিলাম। আমি তো তা ব্যবহার করতেই পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা একেবারে ফর গডস সেক, আমি বলছি এগুলো, আমার দামি পোশাক এগুলো আমার কেনা না। আমি পাই হয়ত আমাকে অনেকে ভালোবাসেৃ আমার অনেক কর্মী আছে, তারা বিদেশে আছে, আসার সময় স্যুট নিয়ে আসে। গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে একজন তিনটি কটি ওখান থেকে বানিয়ে নিয়ে এসেছে, এ রকম এখন আপনি যদি নিয়ে আসেন, আমাকে উপহার দেন, আমি কী করব? এটা গিফট আইটেম!’
আরেক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব, কোনো কন্ট্রাকটরের থেকেৃ কোনো কন্ট্রাকটরকে বসতেও দিই না, আমার সঙ্গে কোনো কন্ট্রাকটরের বৈঠক হয় না, যেটা হতো অতীতে। আজকাল প্রমোশনের জন্য কোনো তদবির হয় না। কন্ট্রাকটররা ইলেকশনের আগে একটা অ্যামাউন্ট দিতে চেয়েছিল, সরাসরি না করেছি। আমারে ইলেকশনের টাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন, কারও থেকে টাকা নিতে হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা চাই তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসুক। আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করুক। আমরা যুদ্ধ চাই না।’
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। তারপরও আমি বলব এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যেকোনো সময় মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীই বলতে পারবেন যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হবে কি না। তার সিদ্ধান্ত আমরা সবাই মেনে নেব। আমাকে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে বললে আমিও ছেড়ে দেব।’