কেরানীগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানে সিএনজি স্টেশন

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের মূল রাস্তার সঙ্গেই অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্টেশন গড়ে উঠেছে। এসব স্টেশন থেকে অবাধে সিএনজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে যেকোনো সময় চুনকুটিয়ার হিজলতলা অথবা চকবাজারের চুড়িহাট্টার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বিঘেœ এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই এই সিন্ডিকেটের। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা না করেই অসাধু ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন এসব স্টেশন।

সরেজমিনে দেখা যায় কোনাখোলা ও আটিবাজার মূল সড়ক ঘেঁষে ৪-৫ স্থানে দুই-তিনটি করে কাভার্ড ভ্যান রাখা আছে। এসব কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে ভাসমান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে দাহ্য গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এখানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। কথা বলার জন্য মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রকাশ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আটিবাজার রহমান সিএনজি পাম্পের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সব সময়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকিÑ কখন কী ঘটে যায়। জোরে শব্দ শুনলেই ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে। প্রশাসনের কাছে আবেদন, এটা সরান, আমাদের বাঁচান।

কোনাখোলা সড়কে সোলেমান সিএনজি ফিলিংয়ের পাশের বাসিন্দা মশিউর রহমান জানান, এর পাশেই বাচ্চাদের স্কুল। কয়েকটি ছোট মার্কেট ও অনেক বাড়ি। একবার দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা ছাই হয়ে যাবে। কয়েক দিন আগে পূর্ব বন্দ ডাকপাড়ায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, তাই প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাই।

দেশের বৈধ সিএনজি স্টেশনগুলোতে প্রতি পয়েন্ট (লিটার) সিএনজি গ্যাস বিক্রি করা হয় ৪০-৪১ টাকা। কিন্তু ভাসমান এ স্টেশনগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা প্রতি পয়েন্ট। গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১৫ টাকা করে বেশি নিচ্ছে ভাসমান এ স্টেশনগুলো।

আবদুর রহিম নামে এক সিএনজিচালক জানান, আগে ঢাকার জুরাইন থেকে গ্যাস নিতাম নির্ধারিত দামেই। এরপর কদমতলী গোলচত্বর থেকে গ্যাস নিতাম (তানাকা পেট্রলপাম্প)। রাস্তার কাজের জন্য সরকার সেটি ভেঙে দিয়েছে। তাই এখান থেকে গ্যাস নিই। এলাকাবাসীর সমস্যা হয় বটে, ঝুঁকির বিষয়। প্রশাসন বন্ধ করে দিক, না হলে সঠিকভাবে যেন এরা পাম্প গড়ে তোলে সেই চাপ দিক। আমরা সবাই আগে যেভাবে গ্যাস নিতাম, সেভাবেই নেব। প্রশাসন চাইলেই তো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. মোস্তফা মহসীন জানান, প্রোপার হ্যান্ডেলিং যদি না হয় তাহলে এখান থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

কেরানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ স্টেশনগুলো কোনোভাবেই রাখতে দেওয়া হবে না। এগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অতিদ্রুতই কেরানীগঞ্জবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এগুলো বন্ধ করে দেব।