জানালা দিয়েই আসবে বিদ্যুৎ

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে স্যাটেলাইটের শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সোলার প্যানেল তৈরি ও ব্যবহার শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বসতবাড়িসহ কলকারখানায় শুরু হয় সোলার প্যানেলের ব্যবহার। তারপর থেকে বাড়ির ছাদের ওপর সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার চলছে বেশ কিছুকাল ধরে। তবে হাল আমলে জীবাশ্ম জ্বালানির অতিব্যবহার যখন পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে তখন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের গুরুত্ব দেখা দিয়েছে নতুন করে।

সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হচ্ছে নানা ধরনের গবেষণা। কোনো বাড়ির সোলার প্যানেলগুলো যেন সারা দিন সূর্যের আলো পায় সেই অনুযায়ী বিশেষ বাড়িও তৈরি করেছেন স্থপতিরা। বাড়ির বাইরের দেয়াল বা জানালাও যেন রোদ থেকে সৌরশক্তি সংগ্রহ করতে পারে তারও গবেষণার শুরু হয় প্রায় অর্ধশত বছর আগে। অবশ্য জানালায় সোলার প্যানেল বসালে ঘরে আলো আসার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় সেটি বেশিদূর এগোয়নি। তবে কয়েক বছর আগে বিজ্ঞানীরা স্বচ্ছ সোলার তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন, যার চেষ্টার সফল রূপ দিতে শুরু করেছে। ওই স্বচ্ছ প্যানেল জানালার কাচ হিসেবে ব্যবহারও শুরু হয়েছে। সেই জানালা দিয়ে বিনা বাধায় দেখা যাচ্ছে বাইরের দৃশ্য। বিশেষ ধরনের পর্দার সাহায্যে সেই কাচ একদিকে রোদের তাপ প্রতিরোধ করছে, অন্যদিকে সৌরশক্তি উৎপাদন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন প্রকৌশল ও ভৌত বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক রিচার্ড লন্ট উদ্ভাবিত এই স্বচ্ছ সোলার প্যানেল বিশ্বকে দেখাচ্ছে নতুন স্বপ্ন। তার এ আবিষ্কার এটাই নির্দেশ করছে যে, বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির ব্যবহার পরিণত হচ্ছে।

রিচার্ড লন্ট ও তার সহকর্মীদের আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তিতে এমন কিছু জৈব অণু ব্যবহার করা হয়েছে যা ইনফ্রারেড ও অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করতে সক্ষম।

লন্ট বলেন, আমাদের এই আবিষ্কার সৌরশক্তির সর্বাত্মক ব্যবহারের বিষয়ে নতুন এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বিশ্বকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেসব শহরে বড় বড় গগনচুম্বী ভবন রয়েছে, আর সেসব ভবনের দেয়াল বা জানালা হিসেবে কাচ ব্যবহার করা হয় সেখানেই সবচেয়ে ভালো কাজ দেবে তাদের নতুন এ উদ্ভাবন। ওই ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক শক্তি আসতে পারে তার জানালা বা দেয়াল থেকেই।