নওগাঁয় টিকা সরবরাহ বন্ধ দুই মাস

নওগাঁর ১১টি উপজেলায় বিগত দুই মাস শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে সরবরাহ বন্ধ করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সন্তানের টিকা দিতে না পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় জন্মের এক বছরের মধ্যে শিশুকে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ছয়টি টিকা দিতে হয়। আর গর্ভবতীদের দেওয়া হয় টিটেনাস টিকা (টিডি)। সরকারিভাবে এসব টিকা সরবরাহ করা হয়।

জেলায় গড়ে প্রতি মাসে ৯ হাজার ভায়াল (এক ভায়ালে ১০ শিশুকে টিকা দেওয়া যায়) বিসিজি, এমআর ও আইপিভি টিকা প্রয়োজন। ওপিভি প্রয়োজন আড়াই হাজার। আর ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হিমোফাইলাস বি ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইসিস বি (পেন্টাভ্যালেন্ট) টিকা প্রয়োজন গড়ে ১৪ হাজার। কিন্তু জেলায় সাতটির মধ্যে যক্ষ্মা (বিসিজি), হাম ও রুবেলা (এমআর) এবং ইন অ্যাকটিভ পোলিও ভ্যাকসিন (আইপিভি) একেবারেই নেই। টিডি, ধনুষ্টংকার (পেন্টাভ্যালেন্ট), ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) ও নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া (পিভিসি) টিকা সরবরাহও সীমিত। এতে অভিভাবকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ধরনা দিয়েও সঠিক সময়ে সন্তানকে টিকা দিতে পারছেন না।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের সামিউর রহমান-রাবেয়া দম্পতি জানান, প্রথম সন্তান মুনিরাকে যক্ষ্মা, হাম ও রুবেলার টিকা দিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একাধিকবার ধরনা দেন। প্রত্যেকবার সরবরাহ নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তারা টিকা দিতে পারেননি। এ দম্পতির মতো জেলার অনেক অভিভাবক টিকা দিতে না পেরে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলায় প্রায় ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু গত বছরের ২২ নভেম্বরের পর থেকে বিসিজি ও এমআর টিকার সরবরাহ নেই। অথচ এ দুটি টিকা শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সার্জন অফিসে একাধিকবার জানিয়েও কাজ হয়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুত সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্যান্য জেলার মতো নওগাঁয় ঢাকার মহাখালী ইপিআই সদর দপ্তর টিকা সরবরাহ করে। এরপর সেগুলো সব উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। কিন্তু একাধিকবার চাহিদা দেওয়া হলেও ইপিআই টিকা দিতে পারেনি। আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। টিকা আসা মাত্র সব উপজেলায় বিতরণ করা হবে।’