চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দফায় দফায় সভা করে বিভিন্ন পদে কর্মরতদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অনিয়মের অভিযোগে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পদোন্নতি পেলেও যোগ্যরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে চসিক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানাতে নির্দেশনা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রাম মানার কথাও বলা হয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ নভেম্বর অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া পদোন্নতি না দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেন চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জানুয়ারি চসিকের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ও অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখার উপ-সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। এমনকি পদোন্নতি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, তা চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে লিখিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চসিকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছি। যথাক্রম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সভার মাধ্যমে এসব পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগকারী চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা বলেন, ‘পদোন্নতির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। মন্ত্রণালয়ে আমি কোনো চিঠি দিইনি।’
চসিক সূত্রে জানা যায়, চসিকের ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রাম ২০১৯ সালে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত এই নতুন অর্গানোগ্রাম অনুসারে সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে চসিক কর্র্তৃপক্ষ পদোন্নতির জন্য সভা করেছেন। সভায় সিটি মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারেই বিভিন্ন পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে চসিকের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বেও নতুন সংশোধিত অর্গানোগ্রামে নতুন পদ সৃষ্টি করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন জনকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে আছেন চসিকে বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম বা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং অনেকে এখনো নানা অনিয়মে জড়িত। তাদের শাস্তির বদলে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের ম্যানেজ করে এসব পদোন্নতি নেওয়া হচ্ছে। এতে যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে চসিকের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রামে ‘জুনিয়র ম্যাক্সিকিউটিভ’ পদটি না থাকলেও সংশোধিত অর্গানোগ্রামে এই পদটি সৃষ্টি করে ৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন চসিকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. নজরুল ইসলাম, সচিবের পিএ বেনজির আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পিএ মো. শাহাদাত হোসেন, উপ-কর কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পিএ সামিউল হাসান, প্রধান সহকারী মো. ইলিয়াস চৌধুরী। এছাড়াও একইভাবে ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রামে না থাকা সত্ত্বেও নতুন সৃষ্ট অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে পদোন্নতি পাওয়াদের মধ্যে ডিটিও কামরুল ইসলাম ২০১১ সালে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের আমলে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নিয়ে ব্যক্তিগত সহকারী হয়েছিলেন। পরে ২০১২ সালে দুর্নীতির দায়ে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া, প্রধান সহকারী মো. ইলিয়াছ চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটে নানা অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা বলেন, ‘পদের বাইরে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। চসিকের অর্গানোগ্রাম অনুসারে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।’