চলচ্চিত্র উৎসবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বিশে^র সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা উচিত, তাহলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান সামনে রেখে গতকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, মধুমিতা সিনেমা হল ও স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধারা সিটি ও সীমান্ত স্কোয়ারে একযোগে শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত।’ দেশের ৬৪টি জেলায় সিনেমা হল নির্মাণের কথাও বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম তৈরি করে দিতে হবে। উৎসবের মাধ্যমে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় সভাপতিত্ব করেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পোল্যান্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতা জোয়ানা কস-ক্রাউজ। সভাপতির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “আগামী বছর ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উৎসর্গ করা হবে ‘মুজিববর্ষের চলচ্চিত্র উৎসব’ হিসেবে। সেই হিসেবে এখন থেকেই আগামী উৎসবের পরিকল্পনা শুরু হবে। আগামীতে উৎসবের পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে।”

এর আগে বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় মণিপুরী থিয়েটারের মৃদঙ্গ বাদন ও নৃত্য। এর ভাবনা ও নির্দেশনা দেন শুভাশিস সিনহা, জ্যোতি সিনহা, সুইটি দাস ও বাবুচাঁন সিংহ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর চলচ্চিত্র ‘উইন্ডো টু দ্য সি’ দেখানো হয়। স্পেন ও গ্রিসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল জিমেনেজ।

উৎসবে ৭৪টি দেশের ২২০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ১২-১৩ জানুয়ারি চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ ঢাকা ক্লাবের স্যামসন লাউঞ্জের ২য় তলায় অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’।