ভোটের তারিখ নিয়ে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় ইসি

সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটের তারিখ পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে, এ বিষয়ে হাইকোর্ট কোন আদেশ দিলে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু ওই দিন সরস্বতী পূজার দিন হওয়ায় ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

ইসি রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোটের তারিখের পরিবর্তন নিয়ে আমরা কোন আলোচনা করি নাই। কে বা কারা এই কাজ করেছে তা জানা নেই। নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের রিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি মহামান্য হাইকোর্ট কোন আদেশ দেন তাহলে অবশ্যই সেগুলো আমরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’

এদিকে গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা এক চিঠিতে পূজার জন্য ভোট পেছাতে ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেন। তার চিঠি বিবেচনায় নিয়েই রিটার্নিং কর্মকর্তা ১০ জানুয়ারি চিঠি দেন ইসিতে।

অন্যদিকে, সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি রবিবার কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ ।

তবে, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত বলছেন এটি শুনানি করার এখতিয়ার তাদের নাই।’ কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে অন্য বেঞ্চে উপস্থাপন করতে বলেছেন আদালত। সে হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপনের জন্য স্লিপ (মেনশন স্লিপ) জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি সোমবার এই বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি আসবে।’

প্রসঙ্গত, সরস্বতী পূজার কারণে ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ পেছানোর জন্য গত ৫ জানুয়ারি রিট করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। এছাড়া, পূজার কারণে বেশ কয়েকটি সংগঠন সিটি নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়ে চিঠি দেয় ইসিকে। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩০ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এরই মধ্যে কমিশনও আমাকে জানিয়েছে, ওই তারিখেই নির্বাচন হবে। সেভাবেই সব কাজ চলছে।

৩০ জানুয়ারি ভোট উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটিতে সাধারণ ছুটি থাকবে জানিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইসি।