বিনিয়োগ বাড়াতে উচ্চ ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে কঠোর হবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে, রপ্তানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি ডলারে ৫ টাকা করে ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন। এছাড়া কাস্টমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি লাগবে শিগগিরই উদ্যোগ নিতে নতুন এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর নিজস্ব দপ্তরে এক বৈঠকে এসব কথা বলেছেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুন মুনিম, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্য
ব্যবসায়ী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, সুদের হারসহ ব্যাংকিং খাতের অবস্থা পর্যালোচনা, রপ্তানিতে নীতি সহায়তা, রাজস্ব আয় বাড়ানো, কাস্টমগুলোতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভা শেষে আলোচনার বিষয়স্তু নিয়ে জানতে চাইলে এফবিবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছি। কীভাবে বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করে আরও ভালো করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক আলোচনা। আমরা আরও বৈঠক করব।
এর আগে ১ জানুয়ারি থেকে শিল্প খাতে সিঙ্গেল ডিজিটের সুদ হার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ হারে আমানত নিয়ে ৯ শতাংশ হারে ঋণ দেবেন। যদিও অর্থনীতিবিদরা এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু এই ঘোষণার তারিখ আর কোনোভাবেই পেছানো হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্দিকুর রহমান বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই সুদের হার বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রী কঠোর হবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আর নতুন করে কোনো তারিখও পেছাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যেন এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করে সেটির কঠোর তদারকি করবেন বলে তিনি (অর্থমন্ত্রী) আশ^াস দিয়েছেন।
এদিকে তৈরি পোশাক খাত নাজুক অবস্থায় আছে জানিয়ে সরকারের কাছে একটি নীতি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আবেদনে প্রতি ডলার বিনিময় হারে অতিরিক্ত ৫ টাকা প্রদান, ১ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা পাওয়ার শর্তগুলো রহিত করা এবং প্রণোদনার ওপর ধার্য কর প্রত্যাহার করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ বিষিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা অনেক আগে রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা বিষয়ে আবেদন করেছিলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি ডলারে ৫ টাকা সহায়তা বিষয়টি তিনি (অর্থমন্ত্রী) বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া আমদানি রপ্তানিতে কাস্টমে নানা ধরনের হয়রানির বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
টিপু মুনশি বলেন, বৈঠকের বিষয়গুলো একেবারেই প্রাথমিক। আরও বৈঠক হবে। আরও আলাপ আলোচনার পর একটা পর্যায়ে এলে কিছু বলা যাবে।
বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য জানা যায়নি। তবে বৈঠকে উপস্থিত অর্থ মন্ত্রণালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সভায় এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কীভাবে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় ব্যবসায়ীরা কাস্টমে তাদের হয়রানির বিষয়টি তুলেন। এ সময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এছাড়া ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদ হার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।