ইউক্রেনের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

কর্র্তৃপক্ষের ‘মিথ্যার’ বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ

ইরানে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে ‘মিথ্যা’ বলায় কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় নেমে তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে। এদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেহরানের রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে শত শত দাঙ্গা পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালে সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকায়ারকে আটক করেছে ইরানের পুলিশ। তবে ৩ ঘণ্টা পর তাকে

 মুক্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লন্ডন। টুইট করে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প। 

গত বুধবার তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের ছয় মিনিট পর ইউক্রেন এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে আরোহী ১৭৬ জনের সবাই নিহত হন। প্রথমে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। কিন্তু উড়োজাহাজটি ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন ইরানের কর্মকর্তারা তা ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে বলছিলেন, যান্ত্রিক ত্রুটিতেই দুর্ঘটনায় পড়ে ওই উড়োজাহাজটি। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার ‘ভুল করে’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিতের কথা স্বীকার করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ইরানি কর্র্তৃপক্ষ।

৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের স্থানীয় সময় ভোররাতে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সুলেইমানি নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বুধবার ভোররাতে ইরাকের দুটি সামরিক ঘাঁটির মার্কিন অবস্থানগুলোতে ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর ঘণ্টা দুয়েক পর তেহরানের কাছে ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা বহু ইরানি ও কানাডীয়র পাশাপাশি ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান ও জার্মানির বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহত হন।

বিবিসি বলছে, ইরানি কর্র্তৃপক্ষের দুই রকমের বক্তব্যের কারণেই বিক্ষোভে নেমেছে তেহরানের অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে উড়োজাহাজের নিহত যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, শরিফ ও আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে প্রতিবাদ শুরু করে। সন্ধ্যার দিকে প্রতিবাদ ক্ষুব্ধতায় রূপ নেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, প্রায় হাজারখানেক লোক নেতাদের বিরুদ্ধে সেøাগান দিয়ে মার্কিন হামলায় নিহত সামরিক কমান্ডার সুলেইমানির ছবি ছিঁড়ে ফেলে।  উড়োজাহাজ ভূপাতিতের ঘটনায় যারা দায়ী ও যারা সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছিল, সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা।

রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে বলে ফারস জানিয়েছে। কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ছবিতে এমনটি দেখা গেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে সুলেইলেমানি নিহত হওয়ার পর তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানজুড়ে মানুষের যে ঢল নেমেছিল সেই তুলনায় এ প্রতিবাদ অনেক ছোট ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিকে তেহরানভিত্তিক বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাকায়ারকে তেহরানের আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আটক করা হয়। তিনি উড়োজাহাজ ভূপাতিতের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক জানাতে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে দূতাবাসে ফিরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু চুল কাটার জন্য একটি সেলুনের সামনে গাড়ি থামানোর পরই তাকে আটক করা হয়। ঘণ্টা তিনেক আটক রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

তবে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, কোনো অভিযোগ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই তেহরান আমাদের রাষ্ট্রদূতকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করেছে। ইরানের সরকার এখন ক্রস-রোড মোমেন্টে আছে। তাদের উচিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়ে উত্তেজনা হ্রাস করার পদক্ষেপ নেওয়া।

এদিকে এক টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইংরেজি ও ফার্সিতে লেখা টুইটে বলেছেন, আমরা নিবিড়ভাবে আপনাদের বিক্ষোভ লক্ষ করছি। আপনাদের সাহস অনুপ্রেরণাদায়ী। আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং আমার সরকারও ধারাবাহিকভাবে আপনাদের পাশে আছে।