ইছামতীর দখলদার দূষণকারীদের তালিকা চায় হাইকোর্ট

পাবনার ইছামতী নদীর তীর অবৈধভাবে দখল এবং দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। ৩ মাসের মধ্যে এ তালিকা তৈরি করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে হবে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। পাবনা জেলার পাবনা সদর, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইছামতী নদীকে কেন প্রতিবেশগত

সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হবে না, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণপূর্বক অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে তাদের কেন উচ্ছেদ করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই নদীতে থাকা ক্ষতিকর স্থাপনা অপসারণ করে কেন নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে না এবং নদী দখল ও দূষণ রোধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

ভূমি সচিব, পরিবেশ সচিব, পানি সম্পদ সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ১৬ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ইছামতীর দখল ও দূষণ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করে পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন বেলা। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত কুমার তালুকদার।

অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, পাবনা জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইছামতী নদী আজ দখল ও দূষণে জর্জরিত। সদর উপজেলার ভাঁড়ারা এবং হেমায়েতপুরের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর এলাকায় দুটি স্লুইসগেট তৈরির পর এ নদীকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নির্মিত স্লুইসগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি প্রবেশ না করতে পারায় এ নদীর প্রবাহ কমে পাবনা শহর এলাকায় নদীটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া নদী দখল করে উভয় পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা, বাড়িঘর ও কলকারখানার বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য এ নদীতেই ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। ইতিমধ্যে পাবনা সদর উপজেলার শুধু পৌরসভা এলাকার ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৮৫টি এবং সাঁথিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নে মোট ৬৬টি অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইছামতী রক্ষায় নানা সময়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও প্রশাসন দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।