ঢাকার ‘মুমূর্ষু’ দিনে অবিশ্বাস্য মাশরাফী-শাদাব

অন্যরা প্রায় ধুঁকেছেন। কেউ কেউ বল খরচ করে পরিস্থিতি করেছেন অগ্নিগর্ভ। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজেদের বাঁচা-মরার ম্যাচে এমন পরিবেশে বাঁহাতে ১৪ সেলাই নিয়ে শাদাব খানের সঙ্গে মাশরাফী গড়েছেন অবিশ্বাস্য এক জুটি।

রবিবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান করেছে ঢাকা প্লাটুন। শেষ ১৬ বলে শাদাব খান মাশরাফীর সঙ্গে গড়েন ৪০ রানের জুটি। ২ বল খেলা মাশরাফী এই সময়ে কোনো রান না করলেও ‘রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে’ দারুণ সঙ্গ দেন শাদাবকে।  আহত ‘সহযোদ্ধা’ মাশরাফীকে নিয়ে শাদাব ৪১ বলে পাঁচ চার, তিন ছয়ে ৬৪ করার পথে ঢাকার আশার প্রদীপ জ্বেলে রাখেন।

ঢাকার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-মুমিনুল হক বেশ সাবধানী শুরু করেও জুটি গড়তে পারেননি। প্রথম দুই ওভারে পরিকল্পনামতো রান তুলতে না পেরে তৃতীয় ওভারে ফোকাস হারান তামিম। রুবেলের করা শেষ বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

তামিমের মুভমেন্ট দেখে মনে হয়েছে ‘আগে থেকে ভেবে রাখা’ শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডাকেন। স্ট্যাম্পে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢোকা বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বোকা বনে যান। ১০ বলে ৩ করতে পারেন এই ওপেনার!

তামিম ফেরার পর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারায় ঢাকা। প্রতিটি আউট ছিল হতাশ ব্যাটিংয়ের ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন। এই সময়ে একে-একে ফিরে যান এনামুল হক (০), মেহেদী হাসান (৭) এবং জাকির আলী (০)।

দ্রুত চার উইকেট হারানোর পথে আগের ম্যাচে ৯১ করা মুমিনুল হক নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে দারুণ কয়েকটি শটে ছন্দ খুঁজে পান। সেই তিনিও খেই হারান ১১তম ওভারে।

রায়াদ এমরিতের বলে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। এই এমরিত তৃতীয় ওভারের সময় অনফিল্ড সাক্ষাৎকারে ধারাভাষ্যকারকে বলছিলেন, ‘মুমিনুলকে খুব বেশি রুম না দিলে সহজে ফেরানো সম্ভব।’ আক্রমণে এসে ঠিক সেই কাজটিই করেন।  ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট নেন তিনি। 

মুমিনুল ৩১ বলে তিন চার এক ছক্কায় ৩১ রান করেন। তিনি পথ ধরার এক ওভার বাদে বিদায় নেন আসিফ আলী (৫)। নাসুম আহমেদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তারই হাতেই ক্যাচ দেন। ২ ওভারে ২ উইকেট নিতে নাসুম দেন ১১ রান।

প্রথম দুই ওভারে দশ রান দিয়ে দারুণ বল করে যাওয়া রুবেলকে রিয়াদ আর আক্রমণে আনেন ১৩তম ওভারে। এই ওভারে দেন ১১!

১৮তম ওভারে থিসারা পেরেরার ছোট্ট একটি ঝড় সামলাতে হয় তাকে। পরপর দুই বলে চার-ছয় হাকিয়ে জেঁকে বসার চেষ্টা করেন এই শ্রীলঙ্কান। কিন্তু ধরা পড়েন তৃতীয় বলে। রুবেল এই ওভারে দেন ১২। সব মিলিয়ে ৩৩ খরচায় ২ উইকেট তার।

ঢাকার এই হতাশার ব্যাটিংয়ের দিন অবাক করেছেন অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। বাঁহাতে ১৪টি সেলাই নিয়ে নিজেকে একাদশে রেখে ব্যাট করতে নামেন ১০ নম্বরে। তখনো বাকি প্রায় আড়াই ওভার। এই অবস্থায় নিজের মোকাবিলা করা দ্বিতীয় বলে ‘বটম হ্যান্ডে’ জোর দিয়ে পুলও করেন!