বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার কারণে কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না বিনিয়োগ। বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসাসূচক বা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস অনুযায়ী দেশে কিছু কিছু সেবা পেতে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় লাগে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ-সংযোগ পেতে সময় লাগে ১৪৮ দিন লাগে। এবার নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া ৭ থেকে ১৪ দিনে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার ওয়ানস্টপ সার্ভিসে এই সেবা দিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি করছে সংস্থাটি। এই চুক্তিসহ মোট ৫টি সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যমান ১৪টি সেবার সঙ্গে আরও ১১টি সেবা দিতে পারবে বিডা।
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ৫টি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির ফলে ১১টি সেবা দিতে পারবে বিডা। এগুলো হলো- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের আওতায় সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের আওতায় ইন্সুরেন্স ও ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (আইআরপি), ইন্সুরেন্স ও এক্সপোর্র্ট রেজিস্ট্রেশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (ইআরসি), রিনোয়েল অব ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (আইআরসি), রিনোয়েল অব এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (ইআরসি) দেবে বিডা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় ইন্সুরেন্স অব ল্যান্ড ইউজ ক্লিয়ারেন্স, নকশা অনুমোদন, বড় ও বিশেষায়িত প্রকল্প অনুমোদন প্রদান, ইন্সুরেন্স অকুপেন্সি সার্টিফিকেট। এছাড়া ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিতরণ বোর্ডের সঙ্গে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে চুক্তি হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিডার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জীবন কৃষ্ণ সাহা রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আওতায় এক জায়গায় বসে ১৫০টি সেবা দেব। এক ছাড়ের নিচ থেকে বিনিয়োগকারীরা এই সেবা পাবেন। বর্তমানে বিডা ১৪টি সেবা দিচ্ছে। আগামীতে আরও ১১টি সেবা যুক্ত হবে। এই জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আজ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট অনুমোদন পেতে আর বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় দৌড়ানো বন্ধ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়।। কোন সেবা কত দিনে দেবে, তাও নির্দিষ্ট করে একটি বিধিমালা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ফলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে না। এজন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইনে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মচারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য ক্ষমতায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা না দিলে সেটা তার অদক্ষতা ও চাকরির অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে বলে আইনে বলা হয়েছে।
ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় বিনিয়োগকারীদের বর্তমানে ১৪টি সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে শিল্প প্রকল্প নিবন্ধন, ব্রাঞ্জ-লিয়াজোঁ বা রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস খোলা, বৃদ্ধি, বাতিল এবং সংশোধন, ভিসা সুপারিশপত্র, ভিসা সুপারিশপত্র সংশোধন, ভিসা অনঅ্যারাইভাল, ভিসা অনঅ্যারাইভাল সংশোধন, কর্মানুমতি প্রদান, কর্মানুমতি প্রদানের মেয়াদ বৃদ্ধি, বাতিল এবং সংশোধন আর রেমিট্যান্স অনুমোদন।