প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ঘোষিত ফল নিয়ে রুল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (২০১৯) ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আদালত রুলে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ লঙ্ঘন করে ২৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ফলাফল কেন আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে ওই বিধিমালা অনুসরণ করে নতুন ফলাফল কেন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে।

আদেশের ১০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. কামাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ এর ৭ এ উল্লেখ রয়েছে, এই বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ ভাগ নারী প্রার্থীদের, ২০ ভাগ পৌষ্য প্রার্থী এবং বাকি ২০ ভাগ পুরুষ প্রার্থীর মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। কিন্তু গত বছর ২৪ ডিসেম্বর যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে ভোলায় নারী কোটার বিষয়টি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ১৬ জন নারী প্রার্থী যারা ওই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তারা ঘোষিত ওই ফলাফলের বৈধতা প্রশ্নে রিট আবেদন করলে আদালত রুল জারি করে। তিনি জানান, এর মধ্যে ওই ফলাফল অনুসারে যদি তারা নিয়োগের উদ্যোগ নেয় তাহলে তা স্থগিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হবেন তারা। আর আদালতের জারি করা রুল বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।

গত বছর ৩০ জুলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে ৫৫ হাজার ২৯৫ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ১৪৭ জন প্রার্থীকে গত ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।